সামরিক আইন জারির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। দেশটির আইনপ্রণেতারা গতকাল তার বিরুদ্ধে বিল এনে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এশিয়ার গণতান্ত্রিক দেশটিতে এমন সিদ্ধান্ত অবশ্য প্রথম। অবশ্য পরে পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতা ও দেশটির সাধারণ জনগণের বিক্ষোভের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।

দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ছয়টি বিরোধী দল আগে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অভিশংসন করতে একটি প্রস্তাব দেয়। এরপর এ প্রস্তাব আজ পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, প্রস্তাবের ওপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ভোট হতে হবে। সে হিসাবে অভিশংসন ভোট হতে পারে শুক্র কিংবা শনিবার।

উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনীর হাত থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সুরক্ষায় এবং রাষ্ট্রবিরোধী নানা শক্তিকে নির্মূল করতে গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে আকস্মিক সামরিক আইন জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তবে দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে, বাইরের কোনো হুমকিতে নয়; বরং নিজস্ব রাজনৈতিক ঝামেলার জেরেই এ সিদ্ধান্ত নেন ইউন সুক।

পরে অবশ্য পার্লামেন্টের ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতারা একযোগে প্রেসিডেন্টের জারি করা এ ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, গতকাল ভোর রাতেই মন্ত্রিসভা সামরিক আইন বাতিলের বিষয়ে একমত হয়। এরপর সকালে আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অভিশংসন করার আহ্বান জানান।

বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘প্রস্তাবের ওপর ভোট হলে আমরা জয়ী হব। কারণ সংসদে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।’