ফিলিস্তিনের গাজায় শিশুসহ হাজারো রোগী জরুরি চিকিৎসার জন্য উপত্যকা ছাড়তে ইসরায়েলের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ১৫ মাস ধরে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এসব রোগী যুদ্ধকালীন আঘাত বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা নিতে পারছে না। খবর এপি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে এসব রোগীর মধ্যে কমপক্ষে আড়াই হাজার শিশুকে অবিলম্বে স্থানান্তর করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ।
ইউনিসেফের কর্মকর্তা রোজালিয়া বোলেন জানান, তিনি গত অক্টোবরে ১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ইসলাম আল-রায়াহেনকে গাজার কেন্দ্রস্থলের একটি হাসপাতাল লিউকেমিয়া, অপুষ্টি ও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছেন। ইসলাম আল-রায়াহেনের পরিবার গত কয়েক মাসে ছয়বার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে গাজার বাইরে জরুরি চিকিৎসার জন্য অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিবার অজ্ঞাত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আবেদন নাকচ করা হয়। রোজালিয়া বলেন, ‘ইসলামকে দেখার তিনদিনের মাথায় সে মারা যায়। ইসলামের মতো এসব শিশুদের অপেক্ষা করার সময় নেই। তাদের বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তারা মারা যাবে।’
এপির প্রকাশিত প্রতিবেদন বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায়ই চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে স্থানান্তরের অনুরোধে প্রতিক্রিয়া জানাতে মাসের পর মাস সময় নেয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এসব স্থানান্তরের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেনাবাহিনী শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে যেতে অনুমোদন দেয় না।
এ বিষয়ে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস সংস্থার জর্ডানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মইন মাহমুদ বলেন, ‘ইসরায়েলি সিদ্ধান্তগুলো স্বেচ্ছাচারী। এগুলো কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড বা যুক্তির ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয় না।’
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা ‘কোগ্যাটের’ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা নিরাপত্তা পরীক্ষাসাপেক্ষে চিকিৎসার জন্য শিশু ও তাদের পরিবারের প্রস্থান অনুমোদনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে। তবে ইসলাম আল-রায়াহেনের বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে সংস্থাটি কোনো উত্তর দেয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা বলছেন, রোগী বা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা পরিষেবা। যদি এ ধরনের সংযোগ পাওয়া যায়, তাহলে প্রস্থানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, গাজা থেকে বিভিন্ন বয়সী ১৪ হাজারেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা জন্য স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ সংখ্যা আরো বেশি, প্রায় ২২ হাজার। এদের মধ্যে সাত হাজার রোগী অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।










