রাশিয়ার কুর্স্কে ইউক্রেনের অনুপ্রবেশকে বৈধ বলে দাবি করেছেন ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ। জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ওয়েল্ট অ্যাম সোনট্যাগের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। 

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়ার কুর্স্ক এলাকায় একটি আন্তঃসীমান্ত হামলা করে ইউক্রেন। কিয়েভের রুশ ভূখণ্ডে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘‌ইউক্রেনের আত্মরক্ষার অধিকার আছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ অধিকার শুধু সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।’

তবে ইউক্রেনের পরিকল্পনার বিষয়ে ন্যাটোকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে ন্যাটোর কোনো ভূমিকা নেই বলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। ন্যাটোপ্রধান বলেছেন, ‘‌রুশ ভূখণ্ডে ঢোকার ক্ষেত্রে ইউক্রেন স্পষ্টতই ঝুঁকি নিল। তবে তারা সেখানে কীভাবে সামরিক অভিযান চালাবে, সেটি আসলে কিয়েভের ওপরই নির্ভর করছে।’ 

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উদ্ধৃত করে ন্যাটোপ্রধান বলেন, ‘‌সীমান্তের বাইরে থেকে রুশ হামলা মোকাবেলা করে একটি বাফার জোন তৈরি করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। সব সামরিক অভিযানের মতো এটিতেও ঝুঁকি রয়েছে।’

এদিকে রাশিয়া চায় না ইউক্রেন পশ্চিমাদের সহায়তা নিয়ে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাক। ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তাকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ বলে দাবি করছে দেশটি। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটিকে ক্রমাগত সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে বলেও উল্লেখ করা হয় খবরে। 

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণ বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেফ বারেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বলেছেন, ‘আজ ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সামরিক সহায়তা ৪ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে।’ এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে রুশ উপপ্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেছেন, ‘‌ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা এ যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে। তারা এটি না করলে ইউক্রেন অনেক আগেই যুদ্ধ বন্ধ করে দিত।’ 

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের মধ্যেই বিমান বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিকোলা ওলেশচুককে বরখাস্ত করেছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল দেশটির সরকারি বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। 

রুশ হামলায় ইউক্রেনের একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবরের পর পরই বিমান বাহিনীর কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হলো। অবশ্য বিমান বাহিনীর কমান্ডারকে সরানোর কোনো কারণ উল্লেখ করেননি জেলেনস্কি। তিনি শুধু বলেছেন, ‘আমি বিমান বাহিনীর কমান্ডার পদে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের সব পাইলটের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষা ও কমান্ড লেভেল শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। 

২২ আরোহীসহ রুশ হেলিকপ্টার নিখোঁজ রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপদ্বীপ কামচাটকায় তিন ক্রু ও ১৯ জন যাত্রীসহ একটি হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সরকারকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। 

গতকালের এ দুর্ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এমআই-৮টি মডেলের হেলিকপ্টারটি ভচকাজেতাস আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি একটি ঘাঁটি থেকে রওনা হয়। এর পরই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে এটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্রুরা যথাসময়ে রিপোর্ট না করায় হেলিকপ্টারটির বিষয়ে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সেটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর হেলিকপ্টারটির সঙ্গে কী ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘন কুয়াশাসহ প্রতিকূল পরিবেশে হেলিকপ্টারটি উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। 

সংবাদমাধ্যম বলছে, কামচাটকা এলাকাটি মস্কো থেকে বেশ দূরে। সময়ের হিসাবে এটি মস্কো থেকে ৯ ঘণ্টা এগিয়ে। পরিবেশগত কারণে কামচাটকা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এর আগেও গত ১২ আগস্ট ১৬ জন যাত্রী নিয়ে এমআই-৮টি মডেলের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অবশ্য পরে ১৩ জন যাত্রী এবং তিনজন ক্রু নিয়ে হেলিকপ্টারটি কামচাটকা লেকের পাশে অবতরণ করে। রাশিয়াসহ ওই অঞ্চলে দুই ইঞ্জিনের এমআই-৮টি হেলিকপ্টার খুবই জনপ্রিয়। এটি ১৯৬০ সালের দিকে বাজারে আসে।