হোয়াইট হাউজের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সতর্ক
করে বলেছেন, কৃষ্ণ সাগরে বেসামরিক জাহাজে আক্রমণ করে ইউক্রেনের ওপর দোষ চাপাতে পারে
রাশিয়া। মস্কো সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বন্দরের পাশাপাশি
ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব জাহাজ সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। খবর দ্য
গার্ডিয়ান।
গতকাল বুধবার (১৯ জুলাই) মার্কিন জাতীয়
নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র অ্যাডাম হজ জানান, ইউক্রেনের শস্য চলাচল থেকে লক্ষ্যবস্তু
প্রসারিত করতে পারে রুশ সামরিক বাহিনী।
সদ্য প্রকাশ হওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে
তারা সতর্ক করছেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি কৃষ্ণ সাগর হয়ে বিশ্ববাজারে ইউক্রেনীয়
শস্য রফতানির আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে মস্কো। এছাড়া ওডেসার
বন্দরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মস্কো বলেছে, ওডেসায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে
ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু অ্যাডাম হজ ইউক্রেনের অভিযোগকে সমর্থন করে জানান,
রফতানির জন্য রাখা ‘কৃষি অবকাঠামো ও ৬০ হাজার টন শস্য’ ধ্বংস করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের
হামলা এখন বেসামরিক জাহাজেও প্রসারিত হতে পারে। রাশিয়া এমনভাবে হামলা চালাবে যেন মনে
হয় এগুলো ইউক্রেনের কাজ।
গতকাল ‘ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক
মাইন’ শনাক্ত ও ধ্বংস
করার ভিডিও প্রকাশ করে রাশিয়া। বিষয়টি উদ্ধৃত করে হজ বলেন, আমাদের পাওয়া তথ্য ইঙ্গিত
দেয় যে রাশিয়া ইউক্রেনীয় বন্দরে মাইন স্থাপন করেছে। কৃষ্ণ সাগরে বেসামরিক জাহাজের
ওপর হামলার ন্যায্যতা প্রমাণ ও ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করতে মস্কো এই কাজ করছে।
এর আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল,
মস্কোর সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের বন্দরের সব জাহাজকে সামরিক
পণ্যসম্ভারের সম্ভাব্য বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জাহাজে যে সব দেশের পতাকা থাকবে
তাদের কিয়েভের পক্ষে বলে ধরা নেয়া হবে।
গত ১৭ জুলাই রাশিয়া নিজেদের প্রত্যাহার
করার জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এক বছরের পুরোনো শস্য রফতানি চুক্তি
শেষ হয়। এর আগের দিন ইউক্রেন থেকে সর্বশেষ জাহাজটি ছাড়ে।
চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের পর ইউক্রেনের
বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের উদ্দেশে’ কৃষ্ণ সাগরের
শস্য করিডোর ব্যবহারের অভিযোগ আনে মস্কো।
গতকাল ইউক্রেন জানায়, প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ার
মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরে একটি অস্থায়ী শিপিং রুট চালু করছে।










