নেপালের নবনির্বাচিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং পদত্যাগ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ব্যবসায়িক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চাপের মুখে বুধবার পদত্যাগ করেন তিনি। বিশেষ করে অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যবসায়ী দীপক ভাট্টার সঙ্গে গুরুংয়ের কথিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছিল।

সুদান গুরুং গত বছর নেপালের জেনজি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া প্ল্যাটফর্ম ‘হামি নেপালের’ অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। ওই আন্দোলনে কেপি শর্মা অলি সরকারের পত ঘটেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন গুরুং। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব এড়াতে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করছি।’

গুরুং আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিনিয়োগ, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমার কাছে পদ-পদবি থেকে নৈতিকতা বড়। জনবিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই। দেশে চলমান জেনজি আন্দোলন, যা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছে, সেই আন্দোলনও একই বার্তা দিয়েছে—জনজীবন হতে হবে স্বচ্ছ এবং নেতৃত্বকে হতে হবে জবাবদিহিমূলক।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার ৪৬ সহযোদ্ধার রক্ত ও আত্মত্যাগের ভিত্তিতে গঠিত এই সরকারের ওপর কেউ প্রশ্ন তুললে তার উত্তর একটাই—নৈতিকতা।’

দীপক ভাট্টার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মুখে এর আগে গুরুং তদন্তে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং তথ্য ও গুজবের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। অভিযোগ আর সত্য এক জিনিস নয়। সিদ্ধান্ত হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগের ওপর নয়। পাশাপাশি দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য এটি দ্বিতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ। এর আগে ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী দীপক কুমার সাহকে বরখাস্ত করেন।