দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, বিচার বিভাগ যেন কোমির বিরুদ্ধে মামলা করে। আর এ ঘটনার পরই সাবেক এ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। তার বিরুদ্ধে দুই পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোমির বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হল, কংগ্রেসে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং একটি নির্দিষ্ট তদন্তে বাধা দেয়া।

অন্যদিকে, কোমি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি নির্দোষ। এর বিচার হোক, সত্য প্রকাশ পাক। তিনি আরো বলেন, আমি নিজের জন্য সঠিক বিচার চাই। ভয়ের কাছে মাথা নত করব না, এবং আপনারাও করবেন না।

২০২০ সালে সিনেটে এক শুনানিতে কোমি বলেছিলেন, তিনি এফবিআইয়ের তদন্ত সংক্রান্ত কোনো তথ্য ফাঁসের অনুমতি দেননি। কিন্তু এ সাক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কেননা, তদন্তকারীরা পরবর্তীতে দাবি করেন, সাংবাদিকের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে কোমি একজন কর্মকর্তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।

এ মামলার সংক্ষিপ্ত অভিযোগপত্রটি সাক্ষর করেছে লিন্ডসে হ্যালিগান। তিনি ট্রাম্পের পছন্দেই সম্প্রতি বিচার বিভাগের দায়িত্বে এসেছেন। আর এসেই তিনি অভিযোগ দায়ের করলেন। এ ঘটনার পরপরই কোমির জামাতা ট্রয় এডওয়ার্ডস পদত্যাগ করেন। তিনি বিচার বিভাগের একজন সিনিয়র প্রসিকিউটর ছিলেন। তিনি বলেন, সংবিধান ও দেশের প্রতি আমার শপথ রক্ষা করতে আমি পদত্যাগ করছি।

এমনকি, অভিযোগের বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রসিকিউটররা আপত্তি তুলে বলছেন, এ অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। কিন্তু গ্র্যান্ড জুরি মনে করেছে, কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এখন বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কোমির ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগ দুটি প্রমাণ করা কঠিন হবে। কেননা,এটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবহারের নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।