থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্ট হুন সেনের বিতর্কিত ফোনালাপ ফাঁসের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। খবর ব্যাংকক পোস্ট।

ফোনালাপে সিনাওয়াত্রাকে স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা করতে এবং যেকোনো কিছুর বিনিময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে কম্বোডিয়ার প্রেসিডেন্টের সাহায্য চাইতে শোনা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ফোনালাপের বিষয়ে সমালোচকরা বলেন, ‘‌এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সামরিক নেতৃত্বের অবমাননা হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় আর্মি রিজিয়নের কমান্ডারকে"বিপক্ষের লোক বলে উল্লেখ করায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাখোন রাতচাসিমাসহ দেশটির নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা থাও সুরানারি স্মৃতিস্তম্ভে প্রতীকী প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতীকী ছাই ছড়িয়ে এটিকে তাদের আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর প্রতিফলন বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা দ্বিতীয় আর্মি রিজিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বুনসিন পাডক্ল্যাং ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে প্রচিনবুরি প্রদেশে ‘রেড শার্ট’ আন্দোলনের সাবেক নেতা চালার্ম কিয়াতবাঞ্চং বলেন, ‘‌আমি বছরের পর বছর ফিউ থাইকে সমর্থন করে আসছি, কিন্তু সে রেকর্ডিংয়ে আমি যা শুনেছি তা ক্ষমার অযোগ্য। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের অবস্থান রক্ষা করতে দেশের সম্মান বা জনগণের ভাগ্য নিয়ে সমঝোতা করেন, তখন তিনি আর নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য নন।’

এদিকে খোন কায়েন প্রদেশে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ এখনো শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্রতিবাদ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। দেশপ্রেমিক সংগীত, কালো পোশাক, পতাকা প্রদর্শনসহ নানা প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে জনতার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। অনেক জায়গায় মানুষ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, দাবি না মানলে তারা আন্দোলন আরো তীব্র করবে।

ফুকেটে ‘ফুকেট পিপল ফর দ্য নেশন’ নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সেখানে গাড়িতে লেখা ছিল জাতির বিশ্বাসঘাতক পদত্যাগ করো। জাতীয় সংগীত বাজিয়ে বিক্ষোভকারীরা থাই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

এছাড়া নাখোন সি থাম্মারাত ও পাত্তালুংসহ কিছু প্রদেশেও একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। পাত্তালুংয়ের বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসনের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।