অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাস্তুচ্যুত লোকদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেকে।

গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম গতকাল সকালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শরণার্থীরা যখন ভোরে ফজরের নামাজ পড়ছিল, তখন তাদের ওপর বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি।

গাজার বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আল-দারাজ জেলায় অবস্থিত আল-তাবিন স্কুলে তিনটি রকেট হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় প্রায় ২৫০ জন মুসল্লি নামাজ পড়ছিলেন। এছাড়া হামলায় আগুন ধরে যাওয়া ভবনে আটকে পড়াদের কোনো সাহায্য করা যায়নি। কারণ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় পানির প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

আহতদের গাজা শহরের আল-আহলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের  তাদের অবস্থা গুরুতর।

এক বিবৃতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ওই স্কুলকে হামাস গোষ্ঠী আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল বলে তারা সেখানে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ বলেছে, হাসপাতাল ধ্বংসের মতো একই অজুহাতে শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল স্কুলগুলো ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ইসরায়েলকে আরো ৩৫০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ চলাকালীন কয়েক মাস আগেই এ অর্থ বরাদ্দ করে মার্কিন কংগ্রেস। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এ অর্থ ছাড় দেয়া হচ্ছে।

গত এপ্রিলে এ ধরনের একটি বিল পাস করেছিল কংগ্রেস, যেখানে ইসরায়েলের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার আসে সম্পূরক তহবিল থেকে। বিদেশী সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ব্যবহার করতে পারে।

তবে অবিলম্বে ৩৫০ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র পাবে না ইসরায়েল। বরং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সিস্টেমগুলো সংগ্রহ করতে হবে, যা এখন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পূরক তহবিল বিলিয়ন ডলার মূল্যের সরঞ্জামও বরাদ্দ করেছে, যা ইসরায়েলে সরাসরি নিজস্ব মজুদ থেকে পাঠাচ্ছে পেন্টাগন।

সম্প্রতি তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া নিহতের পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর পর থেকেই ইসরায়েলকে আরো অস্ত্রসহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর পরই গাজায় পাল্টা আক্রমণ করে ইসরায়েল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় প্রায় ১০ মাস ধরে চলা সংঘাতে কমপক্ষে ৩৯ হাজার ৬৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৯১ হাজার ৭২২ জন। প্রতিদিনই গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর কেউই এ হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।