কিছুদিন আগেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইউক্রেনের সেনারা। তবে অস্ত্রসহায়তা পাওয়ার পর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। বিস্ময় তৈরি করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা। অপ্রত্যাশিতভাবে ঢুকে পড়ায় অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়ছে রুশ সেনারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা বিস্মিত বলে জানা যায়। 

প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে কেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে অগ্রসর হচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। রাশিয়ার চেয়ে তাদের সৈন্য সংখ্যা অনেক কম। তার পরও বিপুল সেনাবহর কেন রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাঠিয়েছে ইউক্রেন? 

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে রুশ অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে ইউক্রেন। সামরিক বিশ্লেষক মিখাইল জোরখোভ বলছিলেন, সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলের ফ্রন্টলাইনগুলোতে মনোযোগ দিয়েছিল রাশিয়া। এ অবস্থায় ইউক্রেনের নতুন এ আক্রমণের কারণে সেখান থেকে সৈন্য কমিয়ে কুর্স্কে মোতায়েনে বাধ্য হয়েছে মস্কো। গত কয়েক দিনে দোনেৎস্কে রুশ যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণ কমে গেছে। ফলে এটা পরিষ্কার যে এগুলো অন্য কোথাও মোতায়েন করা হয়েছে। দখলকৃত অঞ্চল ধরে রাখার চেয়ে নিজেদের অঞ্চল রক্ষা করা রাশিয়ার কাছে বেশি জরুরি।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গে তিনটি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রাশিয়া। কয়েক দিন ধরে রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলা মোকাবেলায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয় মস্কো। 

মঙ্গলবার রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্স্ক অঞ্চলে ঢুকে পড়ে ইউক্রেনীয় সেনা ও যোদ্ধারা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে মস্কোর হামলা শুরুর পর রুশ ভূখণ্ডে কিয়েভের সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ঘটনাকে। রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ অবশ্য জানাচ্ছেন, ইউক্রেনীয় সেনার অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের বাহিনীকে সীমান্তে পেছনে ঠেলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

তবে কুর্স্কে আরো আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রুশ সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে সেখানে অতিরিক্ত ট্যাংক, সেনা, গোলাবারুদ ও রকেট সিস্টেম পাঠানো হয়েছে।

কুরস্কে হামলার বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্ত শহর সুদজার একটি গ্যাসক্ষেত্র দখল করেছে সেনারা। ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একমাত্র পাম্পিং স্টেশন আছে সুদজায়। ফলে এ শহরের পতন হলে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে।

কুরস্কের সুদজায় এ মুহূর্তে ঠিক কী ঘটছে তা জানা কঠিন। বিবিসির সাংবাদিক স্টিভ রজেনবার্গ বলেছেন, ‘এটি স্পষ্ট যে কুরস্ক অঞ্চলে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ার যুদ্ধ যে পরিকল্পনামতো চলছে না সেটিই আরো বেশি করে প্রমাণ হয়।’ খবর বিবিসি ও রয়টার্স।