ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলংকা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে ওই যুদ্ধবিমানগুলো নামাতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। শুক্রবার পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই তথ্য জানান। খবর আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান।

প্রেসিডেন্ট জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ করা হয়েছিল। তারা জিবুতির একটি ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ দুটি যুদ্ধবিমান ৪ থেকে ৮ মার্চের জন্য মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু শ্রীলংকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং নিজেদের ভূখণ্ডকে কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে না দিতে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

একই দিনে ইরানের পক্ষ থেকেও একটি অনুরোধ আসে। ভারত সফর শেষে ফেরার পথে দেশটির তিনটি যুদ্ধজাহাজ ৯ থেকে ১৩ মার্চের জন্য কলম্বো বন্দরে ভিড়তে চেয়েছিল। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, আমরা ইরানের অনুরোধটি বিবেচনা করছিলাম। কিন্তু আমরা যদি ইরানকে অনুমতি দিতাম, তবে যুক্তরাষ্ট্রকেও তা দিতে হতো। আমরা তা করিনি।

ভারত মহাসাগরের এ দ্বীপরাষ্ট্রটি যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে পড়ে যখন গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের একটি ফ্রিগেটে টর্পেডো হামলা চালায়। আইআরআইএস ডেনা নামের ওই জাহাজটিতে হামলায় অন্তত ৮৪ জন নাবিক নিহত হন। শ্রীলংকার নৌবাহিনী সেখান থেকে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় ২১৯ জন ক্রুসহ আইআরআইএস বুশেহর নামের দ্বিতীয় একটি ইরানি জাহাজকে কলম্বোয় আশ্রয় দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-উভয় দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার প্রধান রফতানি বাজার, অন্যদিকে লংকান চায়ের প্রধান ক্রেতা হলো ইরান।