আরবের হাজার বছরের ঐতিহ্যবহুল শহর দামেস্কে ক্ষমতার পালাবদল হলো। আল-আসাদ পরিবারের অর্ধশতাব্দীর শাসনের অবসান হলো উৎখাতের মধ্য দিয়ে। বাশার ২৪ বছর দেশ শাসনের পর স্বৈরশাসকের কালিমা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি দামেস্ক ছেড়ে পালানোর পরই রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোয় হাজার হাজার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন। এরই মধ্যে একটি গ্রুপ বাশার আল-আসাদের বাসভবনে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দামেস্কে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের দীর্ঘদিনের বাসভবনে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। যে যা পেরেছে লুট করেছে। কেউবা লুট করা জিনিসের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন। বাসভবন প্রায় সম্পূর্ণ খালি করে ফেলা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সেখানে শুধু কিছু আসবাব অবশিষ্ট ছিল!

দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস বা আশ-শাব (পিপলস প্যালেস) নামের এ বাসভবনটি ১৯৮৫ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ১৯৯০ সালে শেষ হয়। জাপানি আর্কিটেক্ট কেঞ্জো টাঙ্গের নকশায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদটি নির্মাণে ১০০ কোটি ডলার খরচ হয়। পাঁচ লাখ বর্গমিটারের এলাকায় নির্মিত এ বাসভবন কম্পাউন্ডের ভেতরে প্রেসিডেন্সিয়াল হাসপাতালও রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে রিপাবলিকান গার্ডের হেডকোয়ার্টার। সুরক্ষিত এ প্রাসাদের পতনের পর এটি ব্যাপক লুটপাটেরও শিকার হলো।

স্থানীয়দের মতে, লুটপাটকারীরা ছিল মূলত শহরতলির লোক, সশস্ত্র বিদ্রোহী নয়। তারা অভিযোগ করেন, লুটপাটকারীরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভবনে প্রবেশ করে সেখান থেকে জিনিসপত্র চুরি করেছে।

এ লুটপাটের ঘটনা সিরিয়ার রাজধানীতে বিশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাপী। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি চুরি এবং নানা অপরাধীদের পথ তৈরি করে দিতে পারে।

বিশৃঙ্খলা ও লুটপাট ঠেকাতেই সিরিয়ার বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কে ১৩ ঘণ্টার জন্য কারফিউ ঘোষণা করেছে। গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা থেকে আজ সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত এ কারফিউ চলবে বলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

যদিও সবাই লুটপাট করতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাননি। বাসভবনটি ছিল বছরের পর বছর অত্যন্ত সুরক্ষিত, সেখানে প্রবেশাধিকারও ছিল সীমিত। বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো তার বাসভবনে ঢোকার সুযোগ নেয় শত শত মানুষ। প্রেসিডেন্টের সুরম্য ভবনের ভেতরে গিয়ে ছবি তোলার সুযোগও হাতছাড়া করেনি তারা।

সেখানে লুটপাট দেখে হতাশাও ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। লুটপাটকারীদের দিকে দেখিয়ে এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘এটা খুবই খারাপ কাজ হলো। আমি অত্যন্ত মর্মাহত।’