ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহার করলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে রাশিয়ার গ্যাস থেকে পুরোপুরি সরে আসতে পারবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটিই জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ করার আইনি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইইউ। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আলোচনা করতে ইইউর জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ক্রিস রাইট।

রাইট বলেন, ‘আমার মতে, এটা সহজেই ১২ মাসের মধ্যে সম্ভব, এমনকি ছয় মাসেও হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, এবং আমি মনে করি সময়সীমা আরো এগিয়ে আনা ভালো হবে।’ যদিও এ বিষয়ে ইইউ কমিশনের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইইউ কমিশনার জর্গেনসেন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ইইউর রাশিয়ান জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যাওয়া অগ্রহণযোগ্য। তবে ২০২৮ সালের সময়সীমা বাস্তবসম্মত, যাতে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকট না হয়।’

এদিকে চলতি সপ্তাহে কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে রাশিয়ান জীবাশ্ম জ্বালানি দ্রুত বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা বলেন। যদিও কীভাবে তা করা হবে, তিনি তা স্পষ্ট করেননি।

নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মতি প্রয়োজন হবে। হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া এখনো রাশিয়ান গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। এজন্য ২০২৮ সালের সময়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদনযোগ্য।

ইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ প্রায় ১৩ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে কিনবে, যা ২০২২ সালের আগ্রাসনের আগে প্রায় ৪৫ শতাংশ ছিল ।