যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তাপপ্রবাহ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মাঝে দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়াশিংটন রাজ্য পর্যন্ত জারি হয়েছে সতর্কতা। খবর বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আবহাওয়া অফিসের দেয়া পরামর্শের আওতায় থাকছে ফ্লোরিডা থেকে টেক্সাস হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত কমপক্ষে নয় কোটি ৩০ লাখ আমেরিকান।

এয়ার কন্ডিশনারের কারণে টেক্সাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যা গতকাল শুক্রবার (১৪ জুলাই) আরো বেড়েছে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা এনডব্লিউএস সতর্ক করে বলেছে, চলতি মাসে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বিপজ্জনক হতে পারে। সামনের দিকে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবে।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তাপ-সম্পর্কিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ মানুষ মারা যায়।

গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবারে ব্যতিক্রমীভাবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় ফোসকা পড়া তাপ থাকবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত।

তাপপ্রবাহ এমন রাজ্যগুলোতে প্রভাব ফেলছে যেখানে সাধারণত গ্রীষ্মকালে বেশ গরম থাকে। তবে একাধিক অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বকালের রেকর্ডের সমান হবে বা অতিক্রম করবে।

লাস ভেগাস আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান হতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ স্থানগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে সর্বকালের উচ্চ তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে৷

দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহ থেকে তীব্র গরমের সঙ্গে লড়ছে। টেক্সাসের এল পাসোতে তাপমাত্রা টানা ২৭ দিন ধরে ফারেনহাইটে তিন অঙ্কের ঘরে রয়েছে।

সারা বিশ্বেই পারদ চড়ছে। গত সপ্তাহে, বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। প্রাকৃতিকভাবে এল নিনোর প্রবাহও রয়েছে; যার কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও প্রতি তিন থেকে সাত বছরে ঘটে।

শিল্প যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে পৃথিবী এর মধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে। কার্বন নির্গমন হ্রাস না করলে ক্রমশ আরো বিপজ্জনক দিকে যাবে তাপমাত্রা।