যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী নভেম্বরে। এরই মধ্যে চলছে জোর প্রচারণা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবির হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের রানিং মেট ও ওহাইও সিনেটর জেডি ভ্যান্সের অভ্যন্তরীণ গবেষণাসহ প্রচারাভিযানের বেশকিছু নথি তাদের ই-মেইল করা হয়েছে। নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে বলে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবির জানিয়েছে, তাদের  অভ্যন্তরীণ কিছু তথ্য হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছে। এ হ্যাকিংয়ের পেছনে রয়েছে ইরান। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনো তথ্যপ্রমাণ দেয়নি ট্রাম্পের প্রচার শিবির। তবে অতীতের বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই থেকেই তারা বেনামি একটি উৎস থেকে ই-মেইল পেতে শুরু করে। এসব ই-মেইলে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের কার্যক্রমের অভ্যন্তরীণ ও প্রকৃত কিছু তথ্য ছিল। এর পরই তারা (ট্রাম্পের প্রচারশিবির) বুঝতে পারে যে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। এমনকি অজ্ঞাত উৎস থেকে পাওয়া ই-মেইলে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট (রানিং মেট) পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য দুর্বলতা নিয়েও তথ্য ছিল বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার ও মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যদিও ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয় নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা জাতিসংঘের প্রতিনিধি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে জাতিসংঘে ইরানের মিশন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। কখনই এতে হস্তক্ষেপ করে না ইরান। এগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয় দেশটি।

গত জুলাইয়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে হামলার কবলে পড়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। এমনকি এ হামলার পেছনে কোনো তথ্যপ্রমাণ সেভাবে পাওয়া যায়নি। যদিও বরাবরই এ হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছে ট্রাম্পের নিরাপত্তা শিবির। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান।