চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি বড় আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৩টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) পর্যন্ত এ সংখ্যা পাওয়া যায়। এছাড়া নিখোঁজ ছিল অন্তত ৩০০ জন। বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে এ আগুন লাগে। এর একদিনের বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার পর ভবনের সংকট মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর রয়টার্স।

তাই পোর ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সে আটটি ব্লক বা টাওয়ারে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাটে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ থাকত। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়ে পরপর সাতটি ব্লকে। এর মধ্যে গতকাল সবকটি ব্লকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি কর্মী ও তিন শতাধিক যান আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বিদেশী গৃহকর্মীরাও হতাহত হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুজন ইন্দোনেশীয় কর্মী মারা গেছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ এখনো অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। তবে ঘটনাস্থলের ছবিগুলোয় দেখা যায়, কমপ্লেক্সটির চারপাশে সংস্কারকাজের জন্য লাগানো বাঁশের মাচা এবং সবুজ রঙের জালির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিছু বাঁশের মাচার অংশ জ্বলন্ত অবস্থায় নিচে ভেঙে পড়ে। এ কারণে একটি নির্মাণ কোম্পানির নিরাপত্তাহীন উপকরণ ব্যবহারের বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জাল ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিনিরাপত্তার নিয়মবিধি মানা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া একটি ব্লকে জানালায় ফোম দিয়ে সিল করার ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী সন্দেহে তারা নির্মাণ সংস্থাটির দুই পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শককে গ্রেফতার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনিরাপদ সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে গতকাল পুলিশ সেই ভবন রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মাণ সংস্থাটির কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে দরপত্রের নথি, কর্মচারীদের তালিকা, ১৪টি কম্পিউটার ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। সরকার এ কমপ্লেক্সের নিবন্ধিত ঠিকাদার হিসেবে প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে চিহ্নিত করেছে।

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি জানিয়েছেন, সরকার এ ট্র্যাজেডির পর অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য ৩০ কোটি হংকং ডলারের (প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার) একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বাসিন্দাদের জন্য হোটেলের এক হাজারটি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে তারা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারবে।

জন লি সাংবাদিকদের বলেছেন, হংকং সরকার ভবিষ্যতে ধাতব মাচা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়া বাঁশের মাচার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে শিল্প খাতের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে দেশটির বীমা খাতেও। ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সের বিীমা প্রদানকারী চায়না তাইপিং ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত ভবনের অগ্নিবীমা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ঝুঁকি বীমা ও কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বীমা প্রদান করছে।

আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ বলছে, অবহেলার কারণে আগুন ভয়াবহতা পেয়েছে ও জীবনহানি বেড়েছে। আগুন নেভানোর কাজ এখনো চলছে।

এদিকে চীনা কোম্পানি ও গ্রুপগুলোও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য অনুদান ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা শাওমি, এক্সপেং ও জিলি। এছাড়া রয়েছে আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার মতো দাতব্য ফাউন্ডেশনও।