ইরানের প্রয়ার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাতদিনব্যাপী শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি মীমাংসায় পৌঁছানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ আলোচনা স্থগিত রেখেছে। খবর আনাদুলু।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী বা ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপন উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয় পেয়েছি। তিনি দাবি করেন, স্নায়ুযুদ্ধ আমেরিকার শত্রুদের ইতিহাসের অতল গহ্বরে ছুড়ে ফেলেছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা ভেনিজুয়েলাকে এক দিনে হারিয়েছি এবং ইরানকে চরম আঘাত করেছি; ওরা এখন মীমাংসা করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। ওরা খুব করে সমাধান চায়। আমরা ভালো মানুষ বলেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ওদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি।
এ ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনকালে তিনি আরো দাবি করেন, ২৫০ বছর বয়সে পদার্পণ করা আমেরিকাই বর্তমানে পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে প্রাচীন প্রজাতন্ত্র। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে মুক্ত স্বাধীন জাতি। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ও স্থায়ী সংবিধান। সেই সঙ্গে মার্কিনীদের মানবিক কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমেরিকানদের চেয়ে বেশি কেউ দান করেনি, ক্ষুধার অন্ন জোগায়নি, রোগ নিরাময় করেনি কিংবা মানবজাতির উন্নয়নে এত অবদান রাখেনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে একটি নতুন আদর্শিক হুমকির বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন কমিউনিস্টদের পুনরুত্থানের হুমকি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে আমাদের দেশে আসা নতুন কিছু অভিবাসীও রয়েছে, যারা এমন কিছু আদর্শ লালন করছে, যা আমাদের জীবনধারা এবং মহিমান্বিত সাফল্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
কমিউনিজমকে মার্কিন স্বাধীনতার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আমাদের দেশের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হুমকি; এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার কিংবা ৯/১১-এর চেয়েও বড়। আমেরিকা কখনোই একটি কমিউনিস্ট দেশ হবে না।
সবশেষে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, আমরা কেবল তখনই মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারতে পারি, যদি আমরা নিজেদের হেরে যেতে দিই।










