সামরিক আইন জারির জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। এ-জাতীয় আর কোনো আদেশ দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার জরুরি টেলিভিশন ভাষণে ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন এবং পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতার মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
টেলিভিশন ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং যারা মর্মাহত হয়েছেন তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। সামরিক আইন জারির বিষয়ে আমি কোনো আইনি বা রাজনৈতিক দায় এড়াব না।’
মঙ্গলবার রাতের ঘোষণার পর সম্ভাব্য অভিশংসনের মুখোমুখি হচ্ছেন এ নেতা। প্রেসিডেন্টের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় তার ক্ষমতাসীন পিপলস পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) নেতা হান ডং-হুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউনের পক্ষে তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার আগাম পদত্যাগ অনিবার্য।’
সামরিক আইন জারির পর জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। পরিবর্তে তিনি বললেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কাজটি তার ক্ষমতাসীন দলের কাছে অর্পণ করবেন। তিনি অভিশংসনের কথাও উল্লেখ করেননি।
গতকাল ইউনকে অভিশংসন করা হবে কিনা সে বিষয়ে ভোটাভুটির আগে পিপিপির প্রায় সব সদস্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। স্পিকার তাদের ওয়াকআউট করার সমালোচনা করলে বিরোধী সংসদ সদস্যরা চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। স্পিকার বলেন, ‘যা করা হচ্ছে তা জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা।’ এ সময় সংসদের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘ফিরে যাও, ভোটে যোগ দাও’ বলে স্লোগান দেন।
যদিও কিছু দলের সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত চেম্বারে ফিরে আসেন এবং বিলটি পাস হতে প্রয়োজনীয় ২০০ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। এর মধ্যে ইউনের নিজের দলের আটজন সদস্যের সমর্থনও দরকার ছিল। রাজনীতিবিদদের বয়কট কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।










