দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ব্যর্থ মার্শাল ল ঘোষণা পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো তীব্র হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) পুলিশ সিউলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে অভিযান চালায়। খবর বিবিসি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। সাধারণ জনগণ ইউনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের অভিযানে ১৮ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ইউন এবং মন্ত্রিসভা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেন। প্রেসিডেন্ট ইউন এই তদন্তের তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজনদের একজন হলেও, তিনি তখন অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

মার্শাল ল ঘোষণার দায় স্বীকার করে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন জেল হেফাজতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিমকে রোববার (৮ ডিসেম্বর) গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একাধিক তদন্ত চলছে। যদিও ইমপিচমেন্ট ভোট এবং পদত্যাগের দাবির মুখেও তিনি এখনো পদে বহাল রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন পেতে ইউন তার মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করতে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে দূরে থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি এই প্রস্তাবকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছে। তারা এ প্রক্রিয়াকে দ্বিতীয় অভ্যুত্থান বলেও উল্লেখ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে। হাংকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের অধ্যাপক ম্যাসন রিচি বলেন, ইউন শিগগিরই ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে পারেন এবং এর আগে বা পরে তাকে বিদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

এর আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে শেষ অভিযান হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। তখন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল। তবে সেই অভিযানে প্রসিকিউটরদের অফিসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সে সময় প্রটোকল অনুযায়ী নথি হস্তান্তর করা হয়েছিল।