এ সপ্তাহের শুরুতে সামরিক আইন জারির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। তিনি বলেছেন, আর কখনো এমন কোনো আদেশ জারি করা হবে না। গতকাল শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সংকটাপন্ন এই নেতা গত মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে সামরিক আইন জারির পর থেকে অভিশংসনের আশঙ্কার মুখে আছেন। খবর বিবিসি।

সামরিক আইন জারির পর জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে ইউন পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে অনুমান করা হলেও তিনি তা করেননি। ইউন তার সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন ভাষণে বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং যারা এই ঘটনার বিস্মিত হয়েছেন, তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কাজ তিনি তার ক্ষমতাসীন দলে অর্পণ করবেন। তবে তিনি ভাষণে অভিশংসনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রেসিডেন্টের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় তার ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) নেতা হান ডং-হুন সাংবাদিকদের বলেন, ইউনের পক্ষে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব নয়। তার আগাম পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি আজ ইউনের অভিশংসনের প্রস্তাবের ওপর ভোট নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের অন্তত আটজন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

বিরোধী দলের নেতা লি জে-মিউং শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ইউনের মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই বক্তব্য জনসাধারণের রাগ ও বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতিকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।

লি আরো বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

এদিকে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের প্রতি সমর্থন কমেছে। গতকাল প্রকাশিত গ্যালাপ কোরিয়ার জরিপ বলছে, এ সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ১৬ শতাংশ, এখন তা ১৩ শতাংশে নেমেছে।