বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্ক দখলে নিলে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তার দেশত্যাগের খবর প্রকাশ হলেও তিনি কোথায় গিয়েছেন, তা নিয়ে দিনভর ছিল ধোঁয়াশা। অবশেষে গতকাল রাতে বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয় বাশার মস্কো পৌঁছেছেন।

রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা তাস ও রিয়া নভস্তির বরাত দিয়ে বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।

এর আগে বাশার আল-আসাদের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়ার পর সিরিয়া ত্যাগ করেছেন বাশার। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রে সংঘাতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের সঙ্গে আলোচনার পর বাশার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে

যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ডেপুটি চেয়ারম্যান কনস্টান্টিন কোসাচিভ জানান, মস্কো সিরিয়ার জনগণকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক, কিন্তু সম্ভবত অতীতের মতো সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়বে না। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের যদি আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হয় তবে তা দেয়া হবে। তবে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সিরিয়ানদের নিজেদেরই মোকাবেলা করতে হবে।’

এদিকে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্রোহী জোট জানিয়েছে, তারা একটি অন্তর্বর্তী শাসকগোষ্ঠীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য কাজ করছেন। জোটটি জানিয়েছে, ‘মহান সিরিয়ান বিপ্লব বাশার সরকারকে উৎখাত করার সংগ্রামের পর্যায় থেকে সিরিয়াকে একত্রে গড়ে তোলার সংগ্রামে উন্নীত হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়াকে আবার সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া থেকে এড়াতে এমন ঘোষণা বিদ্রোহী নেতাদের পরিপক্বতার উদাহরণ।