মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ মুইজু (৪৫)। গতকালের নির্বাচনে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহকে হারিয়েছেন। ভোটে নিজের পরাজয় মেনে নিয়ে মোহাম্মদ মুইজুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ (৬১)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজু মালদ্বীপের রাজনীতিতে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত। ফলে গতকালের এ নির্বাচনকে দেশটিতে চীন ও ভারতের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যালটে বেইজিংঘনিষ্ঠ মোহাম্মদ মুইজুকেই বেছে নিয়েছেন ভোটাররা। ফলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি পর্যটনসমৃদ্ধ দ্বীপ রাষ্ট্রটির নেতৃত্ব দেবেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় এ নির্বাচন রানঅফে গড়ায়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় শতভাগ ব্যালট গণনার পর দেখা গেছে, মোহাম্মদ মুইজু ৫৪ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ পেয়েছেন প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট।
মালদ্বীপে ভোটার সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ৮২ হাজার। চলতি বছরের গোড়ার দিকে প্রথম রাউন্ডের নির্বাচনে মুইজু ৪৬ শতাংশ ভোট পান। সেখানে মোহাম্মদ সোলিহ পেয়েছিলেন ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ১৫ হাজার।
ভারত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত মালদ্বীপ। ২০১৮ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার পর মালডিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এমডিপি) নেতা সোলিহ ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করেন। দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও খুব শক্তিশালী। অন্যদিকে প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স কোয়ালিশনের নেতা মোহাম্মদ মুইজু জোর দিয়েছেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে। মালদ্বীপ দীর্ঘকাল ধরেই ভারতের প্রভাব বলয়ে ছিল। দিল্লিও ভারত মহাসাগরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশে নজরদারি অব্যাহত রাখতে মালদ্বীপকে ব্যবহার করেছে।
মোহাম্মদ মুইজুর চীনপন্থী অবস্থানের বিপরীতে ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নে আগ্রহী ছিলেন। তিনি বরাবরই ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। তবে দিল্লির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দেশটিতে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১০ ও ২০১৩ সালে ভারত মালদ্বীপকে দুটি হেলিকপ্টার উপহার দেয়। ২০২০ সালে দেয়া হয় ছোট একটি এয়ারক্রাফট। সে সময় বলা হয়েছিল, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চালাতে এবং আপৎকালীন মেডিকেল কার্যক্রমে এগুলো ব্যবহার করা হবে কিন্তু ২০২১ সালে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ভারতের দেয়া বিমান চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ৭৫ ভারতীয় সেনা দেশটিতে অবস্থান করছেন। এ ঘটনা মালদ্বীপের সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এ সুযোগ কাজে লাগান চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মুইজু। ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতিকে সামনে রেখে প্রচার চালান তিনি।
মুইজুকে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হয়। ২০১৩-১৮ পর্যন্ত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন। সে সময় দেশটি চীনের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দিয়েছিল মালে। ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলো যখন মালদ্বীপকে ঋণ দিতে অস্বীকার করেছে, সে সময় চীন কোনো শর্ত ছাড়াই তাদের ঋণ দিয়েছে। অনুদান দিয়েছে দেশটির মেগা প্রকল্পগুলোয়। গতকালের নির্বাচনে দৃশ্যত এসবের ফল পেয়েছেন মোহাম্মদ মুইজু।










