নেপালে রাজতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে দুজন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুর কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী সদস্যদেরও। কাঠমান্ডুর বানেশ্বর-তিনকুন এলাকায় আজ সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ থাকবে। এর আগে গতকাল বিকাল ৪টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হয়।
গতকাল সকাল থেকেই রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভরতদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের কাছে জড়ো হয়ে ‘রাজা ও দেশ জীবন থেকেও প্রিয়’ স্লোগান দিতে থাকে। তারা ব্যক্তিগত বাড়ি, দোকান, বিভিন্ন গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দলের অফিস এবং সরকারি সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন বানেশ্বর-তিনকুনসহ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করে। নির্ধারিত সীমানার মধ্যে চলাচল, জমায়েত, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ, ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তি পোড়ানো এবং ভাংচুরের জন্য বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেছে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলছে, সহিংসতায় জড়িতদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সহিংস প্রতিবাদের ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজতন্ত্রপন্থী দল রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) নেতা রবীন্দ্র মিশ্র, শামশের রানা, সেফর্ড লিম্বু ও সান্তোষ তামাং। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৭৭ বছর বয়সী সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ সম্প্রতি কয়েকটি জনসভায় অংশ নিয়েছেন। ২০০১ সালে তার ভাই রাজা বীরেন্দ্র ও রাজপরিবারের বেশির ভাগ সদস্য প্রাসাদে নিহত হওয়ার পর তিনি সিংহাসনে বসেন। ২০০৫ সালে তিনি সংবিধান স্থগিত ও সংসদ ভেঙে দিলে গণআন্দোলন শুরু হয়। ২০০৮ সালে সংসদ নেপালের ২৪০ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে। তখন থেকে নেপালের শেষ রাজা ৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর বাড়িতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। এমনকি তিনি জনসমক্ষেও বেশি আসতেন না। রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে গত ১৬ বছরে নেপালে ১৪টি সরকার গঠন হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধীরগতির কারণে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজতন্ত্রপন্থী কয়েকটি দল সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছে।










