ইরান যে দ্রুতগতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, তা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানিয়েছে পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র। কারণ এটি বোমা তৈরির স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওই কূটনৈতিক সূত্র দাবি করে, এর কোনো বেসামরিক ভিত্তি নেই। তাছাড়া তেহরানের কথিত পারমাণবিক আলোচনার ইচ্ছার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। খবর রয়টার্স।

ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের আওতায় রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার গতি বৃদ্ধি তেহরানের বিশ্বাসযোগ্য আলোচনায় ফিরে আসার ইচ্ছার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ পদক্ষেপগুলোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক ভিত্তি নেই। ইরান এমন সিদ্ধান্ত নিলে তা সরাসরি সামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে ইন্ধন জোগাতে পারে।

আইএইএ-প্রধান রাফায়েল গ্রোসি গত শুক্রবার বলেছেন, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার গতি বাড়িয়েছে, যা ৯০ শতাংশ স্তরের কাছাকাছি। এ স্তর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী।

আইএইএ এক গোপন প্রতিবেদনে সদস্য দেশগুলোকে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে এ দ্রুতগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সমৃদ্ধকরণের এ প্রক্রিয়া কাঁচামালকে এমনভাবে পরিশোধন করে, যাতে এটি বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সম্ভাব্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ্রোসির মন্তব্য ও গোপন প্রতিবেদনের খবরের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ও আইএইএর নজরদারির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।’ তিনি জানান, এ সাম্প্রতিক কার্যক্রমগুলো আইএইএকে সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি সংস্থাটির নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির অধীনে রয়েছে।