বিদ্যুৎ সংকট, দফায় দফায় লোডশেডিং এবং অতীতের ব্যয়বহুল চুক্তির কারণে দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ছে, তখন অনেকেই নিজের ঘরে সৌর ব্যবস্থা বসিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যাটারিও যোগ করছেন, যাতে রাতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যায়। দেশজুড়ে শহরের ছাদ থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের বাড়ির প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে সোলার প্যানেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপ্লব মূলত সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে, সরকারি প্রকল্প বা বড় কোনো সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বদলে ব্যক্তি উদ্যোগেই হয়েছে এই রূপান্তর।

২০২৪ সালে আনুমানিক ১৫ গিগাওয়াট সোলার স্থাপন হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার অর্ধেক। অনেকে বলছেন, শুধু শহুরে ধনীরা নন, গ্রামের মানুষও নিজ উদ্যোগে ছোট ছোট সোলার প্যানেল বসাচ্ছেন। যার সাহায্যে চলছে সেচপাম্প থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

তবে সোলার প্যানেলের দ্রুত বিস্তারের কারণে তৈরি হচ্ছে কিছু সমস্যাও। যারা সোলার ব্যবহার করছেন, তারা গ্রিড ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছেন। আর এর ফলে গ্রিডে থাকা মানুষকে বেশি খরচে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে আরো বাড়তে পারে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক দেশই শিক্ষা নিতে পারে, বিশেষ করে যেখানে বিদ্যুৎব্যবস্থা দুর্বল। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় না থাকলে এই বিপ্লব পরিণত হতে পারে ব্যর্থতার উদাহরণে।