শিশুদের খেলার মাঠের পাশে ঘাসে ঢাকা ছোট্ট একখণ্ড জমি। প্রথম দেখায় সাধারণ মনে হলেও এটিই হতে পারে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ এক অধ্যায়ের সাক্ষী। ২০১৪ সালে জানা যায়, দেশটির তুয়াম শহরের একটি পুরনো শিশু আশ্রমের নিচে শতশত শিশুকে গণকবরে দাফন করা হয়েছে। একটি তালিকায় ৭৯৬ জনের মৃত্যুর বিষয় নথিভুক্ত থাকলেও তাদের কবরের সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।

সেন্ট মেরিজ নামের ওই আশ্রম ১৯২৫-৬১ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এখানে আশ্রয় দেয়া হতো অবিবাহিত মায়েদের ও তাদের নবজাতক সন্তানদের। জন্মের পর মায়েদের কাছ থেকে শিশুদের আলাদা করে ফেলা হতো। ধারণা করা হয়, সে শিশুদের অনেকেই পর্যাপ্ত খাবার, যত্ন ও চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এ ইতিহাস সামনে আনেন ক্যাথরিন করলেস নামের এক শৌখিন ইতিহাসবিদ। পুরনো মানচিত্র, সরকারি নথি ও স্থানীয় সাক্ষীদের বরাতে তিনি দেখান, ওই স্থানে আগে একটি সুয়ারেজ ছিল, যা ১৯৩৭ সালের পর বন্ধ হয়ে যায়। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে দুই শিশু এখানে খেলার সময় একটি কংক্রিট স্ল্যাব সরিয়ে হাড় দেখতে পায়। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

ক্যাথরিনের সংগ্রহ করা মৃত্যু তালিকায় ৭৯৬ শিশুর নাম থাকলেও তাদের কারো কবরের খোঁজ মেলেনি। তদন্তে জানা যায়, এ শিশুদের অনেকের মৃত্যু ‘মানসিক অক্ষমতা’ বা ‘জ্বর’ জাতীয় সাধারণ কারণে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা বা যত্ন তারা পায়নি।

চাপে পড়ে আইরিশ সরকার ২০১৭ সালে প্রাথমিক খনন করে মানব দেহাবশেষের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ খননকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ থেকে শুরু হবে এ খনন, যা চলবে প্রায় দুই বছর। কাজটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড্যানিয়েল ম্যাকসুইনি, যিনি আগে আফগানিস্তানসহ নানা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিখোঁজদের দেহ উদ্ধার করেছেন।

তিনি জানান, শিশুদের হাড় এতটাই ক্ষুদ্র যে শনাক্তকরণ অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে প্রতিটি দেহাবশেষকে যথাযোগ্য সম্মান ও সতর্কতায় শনাক্ত করার চেষ্টা চলবে।

এখনো অনেক পরিবার অপেক্ষায় আছেন তাদের ভাইবোন, সন্তান কিংবা আত্মীয়দের কোনো খোঁজ পাওয়ার আশায়। তুয়ামের ঘাসে ঢাকা সেই ছোট্ট জায়গাটি এখন শুধু ইতিহাস নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার আর সম্মানের প্রতীক।