কেন এই জায়গাতেই পাখিগুলো টিকে আছে—সে প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ। প্রথমত, এখানে তিনতলা উঁচু টেরেস ধাঁচের বাড়িগুলোর ছাদের নিচে বেরিয়ে থাকা কার্নিশ রয়েছে, যেখানে মার্টিন পাখিরা কাদামাটি দিয়ে তাদের কাপ-আকৃতির বাসা তৈরি করতে পারে। নিচে পাখির মল পড়া নিয়ে যাদের অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার ভাবনা, এই উচ্চতা তাদের নাগালের বাইরে।

তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, ফেয়ারফিল্ডের এই জায়গা থেকে মাত্র একঝাপেই পৌঁছে যাওয়া যায় হগশ এলাকায়—যেটি একসময় শহরের আবর্জনা ফেলার জায়গা ছিল। গত অর্ধশতকে জায়গাটি আবার প্রকৃতির কাছে ফিরে গেছে। সেখানে জন্মেছে স্যালো ও বার্চ গাছ, যেগুলো ব্রিটেনে পতঙ্গবান্ধব বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। এসব গাছ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিস্তৃত পোকামাকড়ের জগৎ—যা হাউস মার্টিনদের টিকে থাকার মূল ভিত্তি। আসলে এই পাখিদের জীবনচক্র, গমনাগমন, সবকিছুই নির্ভর করে ওই অদৃশ্য পতঙ্গরাজ্যের ওপর।

মাত্র ১৯ গ্রাম গড় ওজনের এই পাখিগুলোকে বাসার কিনারে বসে দেখলে মনে হয় ছোট ছোট দোয়েল রঙের ইঁদুর। অথচ তারা প্রকৃত অর্থেই বিশ্বভ্রমণকারী। প্রতিবছর এপ্রিলে তারা উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মে পোকামাকড়ের প্রাচুর্যকে কাজে লাগাতে সাহারা-পার আফ্রিকা থেকে উড়ে আসে। আবার শরতে চলে যায় দক্ষিণে, আফ্রিকার কোনো অজানা প্রান্তে।

এই দীর্ঘ পরিযান চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—শুধু বাসা বানিয়ে কিংবা বাড়ির কার্নিশে আশ্রয় দিয়ে হাউস মার্টিনদের ‘ঘর’ দেয়া যায় না। কারণ এদের ঘর তো পুরো পৃথিবী। তাই এদের রক্ষায় কাজ করতে হলে আগে ভাবতে হবে সেই পতঙ্গজগৎকে ঘিরেই—যা এদের অস্তিত্বের ভিত্তি।

গবেষকরা বলছেন, এই কারণেই হগশ, পুরনো সেই আবর্জনার মাঠটিকে বুয়ক্সটনের নতুন একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত করা উচিত। এটি হোক মানুষের পরিকল্পনার বাইরে গড়ে ওঠা, আধা-জংলি এক আশ্রয়, যেখানে প্রকৃতি নিজের খেয়ালে চলবে, আর স্থানীয় মানুষ একে ভালোবাসবে। যদি এই লক্ষ্য অর্জিত হয়, তাহলেই বুয়ক্সটনের হাউস মার্টিনদের জন্য একটি সত্যিকার ঘর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।