মরচে-ধরা এক লালচে ফটক। সেখানে সতর্ক পাহারায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় পুলিশের কয়েক সদস্য। ব্যস্ত সড়ক থেকে মাত্র ১০০ মিটার (প্রায় ৩২৮ ফুট) দূরত্বে অবস্থিত ফটকটি পেরুলেই এক কবরস্থান। শ্রীলংকার নর্দার্ন প্রভিন্সের রাজধানী জাফনার এক প্রান্তে অবস্থিত এ কবরস্থানেই সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে এক গণকবর। এখন পর্যন্ত সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি মরদেহ। যার মধ্যে রয়েছে তিন নবজাতকের দেহাবশেষও।

শ্রীলংকার তামিল জনগোষ্ঠীর জন্য পুরনো ক্ষতকে আবারো উসকে দিয়েছে এ গণকবর আবিষ্কার।

শ্রীলংকা সরকার এবং গেরিলা সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) মধ্যেকার ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তামিলরাই।

গৃহযুদ্ধে চলাকালে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে গুম হয়েছেন তামিল জনগোষ্ঠীর অসংখ্য মানুষ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকের শেষ ভাগ থেকে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শ্রীলংকায় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তামিল।

স্থানীয় তামিল জনগোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে শেষ হওয়া এ গৃহযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে নিহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। তবে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

গৃহযুদ্ধের সময়টিতে মারাত্মক নির্মমতা-নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে স্থানীয় তামিল জনগোষ্ঠীকে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো ‘চেম্মানি’ গণকবর। দীর্ঘ সিকি শতক ধরে স্থানীয় তামিলদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে রয়েছে গণকবরটি। এর সূত্রপাত ১৯৯৬ সালে কৃষান্তি কুমারস্বামী নামের এক স্কুলছাত্রীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বছর গণধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর সদস্য। কৃষান্তির মা, ভাই ও এক পারিবারিক বন্ধুকেও হত্যা করা হয়। ওই চারজনের মরদেহ ওই বছরেই চেম্মানিতে উদ্ধার হয়।

কৃষান্তির ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন সাবেক সেনা করপোরাল সোমারত্নে রাজাপাকসে। ১৯৯৮ সালে বিচার চলাকালে তিনি দাবি করেন, চেম্মানিতে ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে গণকবরে দাফন করা হয়েছে। পরের বছর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে দুটি ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির বলে শনাক্ত হয়।

শুরু থেকেই এ নির্মমতা ও নৃশংসতার ন্যায়বিচার দাবি করে এসেছেন শ্রীলংকার তামিলরা। নতুন এ গণকবরের আবিষ্কার তাদের এ দীর্ঘদিনের প্রশ্নকে আবারো সামনে তুলে এনেছে। এসব গণকবরের আবিষ্কার আদৌ তাদের জন্য ন্যায়বিচারের দুয়ার খুলে দিতে পারবে?

আজ পর্যন্ত পুরনো বহু গণকবরে খননকাজ চালিয়ে অনেক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু গৃহযুদ্ধ চলাকালে জোরপূর্বক গুম ও হত্যার প্রকৃত তথ্য আজো পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ তুলছেন, শ্রীলংকা সরকার এ সংক্রান্ত কোনো তদন্তকে এগিয়ে নেয়নি বা এগুলোর কার্যকর কোনো ফলো-আপও করেনি।

এ মুহূর্তে তামিলদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো চেম্মানির মতো গণকবর কি আদৌ ন্যায়বিচারের দ্বার খুলতে পারবে? এগুলো শ্রীংলকার তামিল জনমানসে গৃহযুদ্ধের সময়কার বেদনাদায়ক অনেক স্মৃতিকে খুঁচিয়ে তাজা করে তুলছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অনেক সূত্রকেও সামনে নিয়ে আসছে। কিন্তু শ্রীলংকা সরকার ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল বা পরিণতি পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার চেম্মানিতে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে কয়েকটি দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এরপর মে মাসের মাঝামাঝি সেখানে ১০ দিনব্যাপী এক খনন কার্যক্রম শুরু হয়।

এ খনন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজ সোমাদেবা নামের এক প্রত্নতত্ত্ববিদ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে ১৯ জনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ‘নিওনাটাল’ কঙ্কাল বা ১০ মাসের কম বয়সি শিশুদের দেহাবশেষ।

তিনি জানান, তাদের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে দেহাবশেষগুলো পরীক্ষা করানো হবে। মরদেহগুলো সমাধিস্থ করার সময় জানতে গণকবর থেকে সেখানে পাওয়া্ সেলোফেন র‍্যাপার বা পোশাকের মতো নিদর্শন বিশ্লেষণ করা হবে। আর এমন কোনো বস্তু না পাওয়া গেলে বিকল্প হিসেবে রেডিও-কার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

তবে এখানে আরো অনেক মরদেহ রয়েছে বলে সন্দেহ রাজ সোমাদেবার।

তিনি জানালেন এখন পর্যন্ত গণকবর এলাকার ৪০ শতাংশেরও কম অংশ খনন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি ও ড্রোনের মাধ্যমে নেয়া ছবি বিশ্লেষণ করে কবরস্থানের ভেতরেই আরো একটি সম্ভাব্য গণকবরের জায়গা চিহ্নিত করেছেন।

সোমাদেবা বলেন, ‘আদালতে এরই মধ্যে এ নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। যেখানে বলেছি, এটিকে একটি গণকবর হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এ নিয়ে আরো তদন্ত প্রয়োজন।”

তামিল নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী রানিতা জ্ঞানারাজাহ আল জাজিরাকে জানান, তিনি জাফনা অঞ্চলের ছয়শোরও বেশি নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে থাকা পরিবারের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের অধিকাংশই ১৯৯৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে নিখোঁজ হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে তামিল অধ্যুষিত জাফনা অঞ্চল থেকে বহু তামিল বাস্তুচ্যুত হন।

তিনি জানান, পরিবারগুলো খননকাজে পূর্ণভাবে অংশ নিচ্ছে। তারা চান সঠিকভাবে মরদেহ শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন হোক। কারণ আগেকার খননপ্রক্রিয়াগুলো অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাই পুলিশের সঙ্গে মিলে এখন চেম্মানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছেন।

চেম্মানি গণকবর থেকে তথ্য উদ্ধারে তামিল সম্প্রদায় খননকারীদের সহায়তা করছেন ঠিকই। কিন্তু অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে গভীর সন্দেহ ও হতাশাও রয়েছে। নর্দার্ন প্রভিন্সে শনাক্ত হওয়া এমন অন্যান্য গণকবর— যেমন মান্নার, কোক্কুথোদুভাই ও তিরুকেতিস্বরমে খনন কার্যক্রম চালিয়েও কার্যকর বা অর্থবহ কোনো উত্তর মেলেনি। বরং এসব ঘটনায় দায় এড়ানোর বা ধামাচাপা দেয়ার জোর অভিযোগ উঠেছে।

জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব রিলেটিভস অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেসের’ (এআরইডি) সভাপতি যোগরাসা কানাগারঞ্জানির আশঙ্কা, চেম্মানিতেও হয়তো একই চিত্র দেখা যাবে।

যোগরাসা কানাগারঞ্জানির ছেলে আমালান এলটিটিইর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। যোগরাসা কানাগারঞ্জানি বলেন, ‘এই গণকবরটিও হয়তো আগেরগুলোর মতোই ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হবে। কোনো বিচার বা উত্তর পাওয়া যাবে না।’

তার প্রশ্ন, ‘যদি আপনি হত্যাকারীদের কাছে বিচার চান, তারা কি আদৌ তা দেবে?’

শ্রীলংকায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণকবর খনন হয়েছিল মান্নারে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ এলাকায় গণকবরটি খননের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। সেটিও পরিচালিত হয়েছিল প্রত্নতত্ত্ববিদ রাজ সোমাদেবার তত্ত্বাবধানে। সেখানে মোট ৩৪৬টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। খনন কার্যক্রমটি তত্ত্বাবধান করে শ্রীলংকা সরকারের আইন মন্ত্রণালয় এবং ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত অফিস অব মিসিং পারসনস (ওএমপি)।

রাজ সোমাদেবার অভিযোগ, মান্নার খননের সময় শ্রীলংকা সরকারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত অব্যবস্থাপনায় ভরা। রাজা সোমাদেবা নিদর্শনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শ্রীলংকা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিন বছর আগে। তা হাতে পেয়েছেন মাত্র এক সপ্তাহ আগে। এবং এখনো সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

আল জাজিরাকে তিনি আরো জানান, মান্নার খননে ১৪ মাস কাজ করে এক পয়সাও পাননি তিনি। নিজের যাতায়াত ব্যয়ও তাকে নিজেকেই বহন করতে হয়েছে।

সোমাদেবা বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ চালানো যায় না। কেউ কোনো দায়িত্ব নেয় না। ওএমপি এখন সাদা হাতিতে রূপ নিয়েছে।

তবে ওএমপির এক প্রতিনিধি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সংস্থাটি চেম্মানি খননে শুধু পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। মান্নার খননের সময় ওএমপি শ্রীলংকার আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিল। তিনি দাবি করেন, তার জানা মতে কোনো অর্থ পরিশোধ বাকি নেই। যদিও এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এছাড়া আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

২০২৪ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘গণকবর থেকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উত্তোলন কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক, মানবিক ও কারিগরি সম্পদের ঘাটতি রয়েছে।’

এ বিষয়ে শ্রীলংকা সরকার যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণ করে, সে বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হয় প্রতিবেদনে।

জাফনাভিত্তিক নীতিগত গবেষণা সংস্থা আদায়ালম সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ বলেছে, ‘চেম্মানিতেও আগের উত্তোলনগুলোর মতোই একই ধরনের ত্রুটি রয়ে গেছে।’

সংস্থাটির অভিযোগ, এ খনন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

লিখিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রীলংকা সরকার যদি চায় যে তামিল জনগোষ্ঠী— বিশেষ করে নিখোঁজদের পরিবারগুলো যেন উত্তোলন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতায় আস্থা রাখতে পারে, তবে তাদের অবশ্যই দেহাবশেষ উত্তোলনের জন্য অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যথাযথ অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সক্রিয়ভাবে আহ্বান করতে হবে এবং নিখোঁজদের পরিবারদের খনন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দিতে হবে।

বামপন্থী নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকে গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির তামিল জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে নতুন এক আশার সঞ্চার হয়।

কিন্তু এখনো্ সে আশার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন এআরইডির সভাপতি যোগরাসা কানাগারঞ্জানি।

তার ভাষ্যমতে, ‘নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসার পর আট মাসেরও বেশি সময় পেরিয়েছে। কিন্তু তিনি আমাদের সমস্যার প্রতি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেননি। শাসক বদলায়, কিন্তু বাস্তবতা একই রকম থেকে যায়।’

কানাগারঞ্জানি আরো বলেন, নিখোঁজদের পরিবারগুলোর জন্য সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্য দিয়ে ‘স্পষ্টতা’ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আদায়ালম সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের মতো তিনিও মনে করেন যে, চেম্মানির খননকাজে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, তদন্ত অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া উচিত।

গণকবর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে দেহাবশেষ উত্তোলনের দাবিটিকে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক থিয়াগি রুয়ানপথিরানার ভাষ্যমতে, ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কারণ এখনো একটি ক্ষেত্রেও উত্তোলন এমনভাবে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, যেখানে গণকবরে পাওয়া মৃতদেহগুলো শনাক্ত করে মর্যাদার সঙ্গে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা গেছে।’

এ সময় পুরো বিষয়টিতে ‘স্বচ্ছতা’ বজায় রাখার জোর দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘জোরপূর্বক গুম হওয়া সব ব্যক্তির সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে নিখোঁজদের পরিবারকে সত্য জানানোর দায়িত্ব রয়েছে শ্রীলংকার।’

— আল-জাজিরা থেকে ভাষান্তরিত