বিতর্কিত নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে আর্মেনিয়া। সম্প্রতি আজারবাইজানের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ এনেছে দেশটি। অভিযোগের পর অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে একটি জরুরি সভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা।
জাতিসংঘে আর্মেনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মেহের মার্গারিয়ান এক চিঠিতে বলেন, ‘গত ১৫ জুন আজারবাইজান লাচিন করিডোর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে অঞ্চলটিতে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর্মেনিয়া ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে নাগার্নো-কারাবাখকে সংযোগকারী একমাত্র রাস্তা ছিল এটি।
চিঠিতে আরো বলা হয়, আজারবাইজান ইচ্ছাকৃতভাবে নাগার্নো-কারাবাখে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ক্রমাগত বাধা দিচ্ছে, যা অঞ্চলটির মানুষ ও তাদের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ককেশাসের প্রতিবেশীরা ১৯৮০-এর দশক থেকে ছিটমহল বিরোধে ভুগছে। অঞ্চলটি নিয়ে তারা দুবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে। তবে বিরোধপূর্ণ এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। সর্বশেষ ২০২০ সালে যুদ্ধে জড়িয়ে আর্মেনিয়া পরাজিত হয় এবং আজারবাইজান সে সময় উল্লেখযোগ্য আঞ্চল দখলে নেয়।
আগামীতে সহিংসতা এড়াতে আর্মেনিয়া সরকার শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। কয়েক মাস ধরে আর্মেনিয়া আজারবাইজানকে লাচিন করিডোর দিয়ে যানবাহন বন্ধ করার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। এটি মূলত একটি ছোট পাহাড়ি রাস্তা, যা নাগার্নো-কারাবাখের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে আর্মেনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালালেও এ দুই প্রতিবেশী দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। আজারবাইজানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মতামত পাওয়া যায়নি।










