দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানবন্দরে ১৮১ জন যাত্রী ও ক্রুসহ একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৭৯ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ। খবর বিবিসি।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের দেয়ালের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় উড়োজাহাজটির। এ সময় উড়োজাহাজটিতে মোট ১৭৫ যাত্রী ও ছয় ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৭৩ জন দক্ষিণ কোরিয়ার আর দুজন থাই নাগরিক।

জেজু এয়ারের উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ফেরত গিয়ে বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ইয়োনহাপ জানিয়েছে, একজন যাত্রী ও একজন ফ্লাইট সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা উড়োজাহাজটির পেছনের দিক থেকে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। মাঝারি আকারের এ উড়োজাহাজ ২০০৭ সালে চালু করা হয়েছিল। তখন থেকে এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করছে।

উড়োজাহাজটি কেন দুর্ঘটনায় পতিত হলো বা কেন রানওয়ে থেকে ছিটকে গেল তা এখনো জানা যায়নি। তবে পাখির কারণে ল্যান্ডিং গিয়ার অকার্যকর হয়ে এটি ঘটতে পারে বলে ইয়োনহাপের খবরে বলা হয়েছে।

এদিকে সত্যতা যাচাই করা যায়নি এমন একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ছে এবং বিমানবন্দরের দেয়ালে গিয়ে আঘাত করছে। কিন্তু দেয়ালে আছড়ে পড়ার আগেই উড়োজাহাজের এক অংশে আগুন ধরে যায়। আরেকটি ফুটেজে দেখা গেছে যে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উঠছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দমকল বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি গাড়িসহ অন্তত ৮০ জন দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন। এয়ারলাইনস জেজু এক বিবৃতিতে এ দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, মুয়ান এয়ারপোর্টের দুর্ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সবার কাছে আমরা অবনত মস্তকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা যা যা করা দরকার সব করব। এ কষ্টের জন্য আমরা দুঃখিত।

উড়োজাহাজ সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো দুর্ঘটনা। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় কিন্তু কম বাজেটের এয়ারলাইনস। দেশটির দমকল বিভাগের ধারণা, পাখির আঘাত ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের প্রধান লি জিয়ং-হুন।

ওদিকে মুয়ান বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চই স্যাং-মক। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তিনি উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল, উপকরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।