ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার
একটি টানেলে আটকে যাওয়া গাড়ি থেকে সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এখনো ১১ জন
নিখোঁজ আছেন। খবর এপি।
গতকাল শনিবার (১৫ জুলাই) উত্তর চুংচেং
প্রদেশের চেওংজুতে টানেলে ১৫টি যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় ৪০০ উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান
কাজ চালায়।
আজ সকালে কর্তৃপক্ষ জানায়, টানেল থেকে
সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত তুলে আনা হয়েছে নয়জনকে। আর পরিবারের দেয়া তথ্য
অনুযায়ী আরো ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে মোট যতজন মানুষ ওই টানেলে আটকা পড়েছেন
এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চেওংজু
শহরের ওসোং শহরতলীর টানেলটি আকস্মিক বন্যার পানিতে ডুবে যায়। এ কারণে চালক ও যাত্রীদের
বেশির ভাগই বেরিয়ে আসতে পারেনি।
সবমিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে অন্তত ৩৩
জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ১০ জন।
বেশিরভাগ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ভূমিধসপ্রবণ
গিয়ংসাং অঞ্চলে। পার্বত্য এ এলাকায় অনেক বাড়িঘর ভেসে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল
শনিবার (১৫ জুলাই) সারা দেশে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সাধারণত
বছরে এক হাজার মিমি থেকে এক হাজার ৮০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। এর বেশিরভাগই হয় গরমের মাসে।
উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ
আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখনো লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি
অবস্থায় আছেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
হান ডাক।
দক্ষিণ কোরিয়ার রেল চলাচলের দায়িত্বে থাকা
কর্তৃপক্ষ সব ধীরগতির এবং দ্রুতগতির কয়েকটি বুলেট ট্রেনের চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে।
যে বুলেট ট্রেনগুলো চালু থাকবে তার অনেকগুলোর চলাচলও ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছে
তারা।
কোরিয়ার আবহাওয়া অফিস আগামী বুধবার পর্যন্ত
আরো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ বিপদ
ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করা দিয়েছে।
সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে ভারত, চীন ও
জাপানসহ বিভিন্ন দেশে বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। বন্যার অনেক কারণের মধ্যে বিজ্ঞানীরা
বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে চরম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা বাড়ছে।










