ইউরোপ সফরে আছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউরোপ সফরে তিনি ইংল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ডে সময় কাটাবেন। খবর সিএনবিসি।
রাতে লন্ডনে পৌঁছার পর বাইডেন পরদিন প্রথমবারের মতো সিংহাসনে বসা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর সফরের প্রধান উদ্দেশ্য লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে ন্যাটো জোটের শীর্ষ নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন এবং রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলার নীতি পুনর্মূল্যায়ন করবেন।
সফরের সমাপ্তি টানা হেবে হেলসিঙ্কিতে। সেখানে বৃহস্পতিবার ন্যাটো জোট সম্প্রসারণ ও ফিনল্যান্ডের যুক্ত হওয়া উদযাপন করবেন বাইডেন। তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, ‘এ সফরে বিশ্বমঞ্চে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব প্রদর্শিত হবে।’
লন্ডন: রাতে লন্ডনে পৌঁছেছেন। আজ বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন বাইডেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইউরোপ প্রোগ্রামের নেতৃত্বে দেয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা ম্যাক্স বার্গম্যান বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কথা বলার মতো সবসময় অনেক বিষয় থাকে।’
বাইডেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠকে মিলিত হবেন। আগামী বছরের শেষ নাগাদ সুনাক পার্লামেন্ট নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। জরিপের তথ্যমতে, সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টি জনমতে বিরোধীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। তার নড়বড়ে রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও তার বাইডেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত অক্টোবরে সুনাকের দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তাদের ষষ্ঠ বৈঠক।
বার্গম্যান বলেছেন, ‘বরিস জনসনের পর সুনাকের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে।’
বাইডেন লন্ডনের বাইরে রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসলে রাজার সঙ্গে দেখা করবেন। চার্লসের রাজ্যাভিষেকের অনুষ্ঠানে বাইডেন না গিয়ে ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনকে পাঠিয়েছিলেন। ফলে রাজা চার্লসের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ঘটবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং কীভাবে সমস্যা মোকাবেলায় নেয়া উদ্যোগগুলোকে অর্থায়ন করা যায় তা নিয়েও কথা হতে পারে।
ভিলনিয়াস: বাইডেন লিথুয়ানিয়ার রাজধানীতে দুদিন কাটাবেন। সেখানে ন্যাটোর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন এবং ভিলনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করবেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে ন্যাটো জোটটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে কিয়েভকে জোটের সদস্যরা অস্ত্র সহযোগিতা করছে।
শুক্রবার বাইডেন জানান, তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য "কঠিন সিদ্ধান্ত" নিয়েছেন।
হেলসিঙ্কি: ভিলনিয়াসে দুই রাত অবস্থানের পর বাইডেন ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি যাবেন এবং ইউরোপ সফরের এখানেই সমাপ্তি টানবেন। নর্ডিক দেশটি গত এপ্রিলে ন্যাটোর ৩১তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
ফিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিবেশী সুইডেনেরও জোটভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে তুরস্ক ও হাঙ্গেরির ভেটোর কারণে সুইডেনের সদস্যপদ আটকে গেছে। কেননা ন্যাটো সম্প্রসারণের জন্য সব সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।
বুধবার সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন হোয়াইট হাউজ পরিদর্শন করে সদস্যপদের জন্য চাপ বজায় রাখতে বাইডেনের সঙ্গে দেখা করেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিলনিয়াসে সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ বাইডেনের হেলসিঙ্কি সফরকে ‘মার্কিন-নর্ডিক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন’ হিসেবে উল্লেখ করছে। কেননা পাঁচ বছর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ হেলসিঙ্কি সফরের থেকে এটি অনেকটাই আলাদা।
সে সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন এবং ট্রাম্পের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পেছনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ থাকার উদ্বেগ দূর করেছিলেন। এবার বাইডেনও একই শহরে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, তিনি কীভাবে মস্কোর বিরুদ্ধে লড়বেন এবং পশ্চিমা প্রতিরক্ষাকে প্রসারিত করেন।










