ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। যদিও গতকাল রাত পর্যন্ত ইরানের প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়ে ইতিবাচক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গতকাল জানান, পাকিস্তান এখনো কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণ করছে। তবে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে আসায় ইরানের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ‘জরুরি’ বা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনায় তারা (ইরান) যোগ দেবে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদে পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা গত ১১ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রথম রাউন্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কিন্তু গতকালও ইরান তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন করেনি। উল্টো ইরানের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি টেলিফোনে ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এ মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব একটা দেখছি না।’ চুক্তি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করতে রাজি নন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘একটি বাজে চুক্তিতে সই করার জন্য আমি কোনো তাড়াহুড়া করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আবার যুদ্ধ শুরু হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি বলেন, ‘যদি চুক্তি না হয়, তবে আমি অবশ্যই তেমনটা (যুদ্ধ শুরু) মনে করছি।’
সিএনবিসিকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদসহ সব ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা এ সময়টাকে রসদ মজুদের কাজে ব্যবহার করেছি। সম্ভবত তারাও (ইরান) কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছে।’ নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মার্কিন বাহিনী হামলা চালাতে সক্ষম জানিয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘সামরিক বাহিনী (অভিযান শুরুর জন্য) মুখিয়ে আছে।’
এদিকে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান নতুন কার্ড (কৌশল) দেখাতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইরান নতুন নতুন কার্ড (কৌশল) দেখাতে প্রস্তুত।’ ট্রাম্প নিজের কল্পনায় আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিল বানাতে চাইছেন বলেও অভিযোগ করেন গালিবাফ। তিনি লেখেন, নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করতে চাইছেন।
শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার এবং কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসহাক দার বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, ‘অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’ তিনি এ বিষয়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ও আলোচনায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার।










