গাজায় চলমান সংঘাতে গতকাল ঘটে গেছে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়। লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নিরাপত্তার খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরই গাজার সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘর ছাড়তে শুরু করে।
ইসরায়েল রাফাহর কিছু অংশকে নতুন একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেটি দখলের পরিকল্পনা করছে। ফলে সেখানকার অসংখ্য মানুষ নিজেদের সম্পদ ও আশ্রয় ফেলে পালাতে বাধ্য হচ্ছে, যা অঞ্চলটির মানবিক সংকট আরো গভীর করেছে। খবর রয়টার্স।
গাজার বড় একটি অংশ দখলের পরিকল্পনা ঘোষণার পরদিনই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দক্ষিণ প্রান্তের শহর রাফাহে প্রবেশ করে। শহরটি এতদিন যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য এলাকা থেকে পালিয়ে আসা মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ভোরের দিকে গাজা শহরের শেজাইয়া এলাকায় চালানো একটি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাফাহ থেকে পালিয়ে আসা সাত সন্তানের এক বাবা রয়টার্সকে বলেন, ‘রাফাহ আর নেই, ওটা ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। যে কয়টা ঘরবাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোও তারা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।’
একটি বিমান হামলার পর খান ইউনিসে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন নিহত হয়। সে সময় নিজের তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা দেখতে গিয়ে আদেল আবু ফাখের বলেন, ‘আমাদের জন্য কি কিছুই বাকি নেই? আমাদের ঘুমের মধ্যেই মেরে ফেলা হচ্ছে।’
রাফাহ দখলের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের এ হামলা যুদ্ধের একটি বড় উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত মাসে ইসরায়েল জানুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত বাতিল করে আবার হামলা শুরু করে।
ইসরায়েল এখন যে নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করছে, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখনো স্পষ্টভাবে জানায়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘সেনারা বর্তমানে মোরাগ অ্যাক্সিস নামে পরিচিত একটি এলাকা দখল করছে, যেটি একসময় রাফাহ ও পাশের শহর খান ইউনিসের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ইসরায়েলি বসতি ছিল।’
যুদ্ধবিরতির সময় অনেক গাজাবাসী ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসেছিল। কিন্তু এখন আবার তাদের গাজার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য এসব এলাকা স্থায়ীভাবে জনশূন্য করে ফেলা, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ স্থায়ীভাবে গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের দাবি করা নিরাপত্তা অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে গাজার শেষ কিছু কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে দীর্ঘমেয়াদে আরো বড় মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।










