সরকার বলছে, খরা কেবল পরিবেশ নয়, ফসল উৎপাদন ও বন্যপ্রাণীকেও হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবেশমন্ত্রী এমা হার্ডি জানিয়েছেন, পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে জলসরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে হোসপাইপের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় খরা কমিটিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। জল কোম্পানিগুলোকে তাদের খরাকালীন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা দেরি করলে তাদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।’

চলতি বছরের জুন মাস ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম গরম ও শুষ্ক। ওই মাসে গড় বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ কম। এর ফলে জলাধারগুলোর পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইংল্যান্ডে পানির মোট মজুদ নেমে এসেছে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০২২ সালের ভয়াবহ খরার সময়কার ৭৭ শতাংশ থেকেও কম।

ইংল্যান্ডের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ (ডেফরা) জানিয়েছে, চলতি বছর কমে যেতে পারে কৃষিপণ্যের উৎপাদন। বিশেষ করে যেসব শস্যে সেচের প্রয়োজন হয় না—যেমন খড় ও শুষ্ক অঞ্চলের শস্য, তাদের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেফরার মতে, প্রকৃতিও এই খরার প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দাবানল, জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়া, উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতি এবং বিরল প্রজাতির প্রজনন ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। খরা কমিটি নাগরিকদের—বিশেষ করে জেলে, সাঁতারু ও নৌযান ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করেছে পরিবেশ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার, যেমন— অসুস্থ বা মৃত মাছের খোঁজ পেলে তা জানাতে।

ইংল্যান্ডের ১৪টি পরিবেশ অঞ্চলর মধ্যে পাঁচটি চলতি গ্রীষ্মেই খরায় পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পরিবেশ সংস্থা। ১৮৮৪ সালের পর এবারই ছিল সবচেয়ে গরম জুন মাস। তাপপ্রবাহের এই ধারা ও অনাবৃষ্টি মিলে বিশাল এলাকার পরিবেশ ও জলসঞ্চয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে।

জাতীয় খরা কমিটির প্রধান এবং পরিবেশ সংস্থার পানি বিষয়ক পরিচালক হেলেন ওয়েকহ্যাম বলেন, ‘১৯৭৬ সালের পর থেকে বছরের শুরু এমন শুষ্ক আর হয়নি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে গ্রীষ্মজুড়ে পর্যাপ্ত পানি থাকে—মানুষ ও প্রকৃতি, দুয়ের জন্যই।’

তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে পরিবেশ সংস্থার দলগুলো নদীর পানি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে।