মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন থেকে কিছুটা ভিন্ন। যেখানে সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয় না। বরং নির্বাচকমণ্ডলী নির্বাচন করা হয়, যা ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যে মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী ২৭০টি ভোট পেলেই তিনি নির্বাচিত হবেন।
মার্কিন নির্বাচনে সাধারণ দুটি দল হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাকি মাত্র দুদিন। দল দুটি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনমত জরিপের জাতীয় গড়ে তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেন গত জুলাইয়ে সরে আসার পর থেকে কমলা হ্যারিস মোটামুটি জনমত জরিপে এগিয়েই রয়েছেন। তবে গত অক্টোবরে এসে সমীকরণ অনেকটাই সমানে সমান হয়ে দাঁড়ায়।
সমীকরণ যেমনই হোক, চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে হাতেগোনা কয়েকটি রাজ্যের ভোটের ওপর। এ রকম রাজ্যের সংখ্যা সাতটি। যেখানে ভোট যে প্রার্থীর দিকে যাবে সে প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য এসব রাজ্যকে ‘সুইং স্টেট’ বলা হয়। ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটসহ এ রাজ্যগুলো হলো উইসকনসিন (১০), নেভাডা (৬), মিশিগান (১৫), পেনসিলভানিয়া (১৯), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৬), জর্জিয়া (১৬) ও অ্যারিজোনা (১১)। সুইং স্টেটগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, সান বেল্ট ও রাস্ট বেল্ট। সান বেল্টের রাজ্যগুলো হলো নেভাডা, অ্যারিজোনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়া। অন্যদিকে উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া রাস্ট বেল্টের অন্তর্গত। সান বেল্ট ও রাস্ট বেল্টে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ৯৩টি। এসব রাজ্যের জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প-কমলার ভাগ্য জনপ্রিয়তা ও জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান শক্ত অবস্থান অনুসারে হ্যারিস ও ট্রাম্প যদি নিজেদের রাজ্যগুলোয় সব ভোট পান, তার পরও বিজয়ী হতে তাদের যথাক্রমে ৪৪ ও ৫১টি ভোটের প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে হ্যারিস ও ট্রাম্পকে অন্তত তিনটি সুইং স্টেটে জয়লাভ করতে হচ্ছে।
নির্বাচনের সমীকরণের মোড় ঘুরতে পারে রাস্ট বেল্টের হিসাবে। উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ায় শিল্পগত ঐতিহ্য রয়েছে। মার্কিন উৎপাদন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র ছিল এ তিন রাজ্য। এসব অঞ্চলে ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার সংস্কৃতি রয়েছে। তা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। গত আটটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাতটির মধ্যে এ তিন সুইং স্টেটে ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করে। তবে ২০১৬ সালে হিসাব পাল্টে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব রাজ্য নিজের পক্ষে নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পালাবদলের হিসাবে কমলা হ্যারিস যদি রাস্ট বেল্ট নিজের দখলে নিতে পারেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দখলে নেন, এর পরও তাকে আরো একটি সুইং স্টেটে জয়লাভ করতে হবে।
এসব রাজ্যে কমলা মূলত নির্বাচনের দিনে কৃষ্ণাঙ্গ, সংখ্যালঘু ও কলেজ-শিক্ষিত ভোটারসহ শহরতলির মধ্যবিত্ত বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ নারী ভোটারদের ভোটের প্রত্যাশায় রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকার ভোটার ও সেসব যুবক ভোটার, যারা এর আগে ভোট দেননি।
হ্যারিসের জন্য মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে পেনসিলভানিয়া। রাস্ট বেল্ট থেকে তিনি যদি পাশাপাশি আরেকটি রাজ্যে জয়লাভ করেন, তাহলে ট্রাম্পের জন্য সমীকরণ আরো কঠিন হয়ে যাবে। তখন তাকে বাকি সব সুইং স্টেটে জয়লাভ করতে হবে। পেনসিলভানিয়াসহ যেকোনো তিনটি সুইং স্টেটে জয়ের মধ্য দিয়ে কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন।










