মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ভোট ও নির্বাচনে জালিয়াতি সম্পর্কে গুজব, বিভ্রান্তিকর দাবি ও মিথ্যা তথ্য নজিরবিহীন ছড়িয়ে পড়ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের কথিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত শত শত ঘটনা স্বতন্ত্র ব্যক্তির পাশাপাশি রিপাবলিকান অনুমোদিত গোষ্ঠী সংগ্রহ করে অনলাইনে পোস্ট করছে। এক্ষেত্রে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে অল্পসংখ্যক পোস্ট দেয়া হচ্ছে।

অনলাইনে যেসব দাবি ছড়িয়ে পড়ছে, সেগুলো নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মঙ্গলবার নির্বাচনের দিন যেসব ভোটার ভোট দিতে যাবেন, তাদের এসব ভুল তথ্য ও মিথ্যা দাবি সংশোধন করে আশ্বস্ত করতে হবে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের দাবি, ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমের বেশ কয়েকটি পোস্টে এই দাবিকে সমর্থন করতে দেখা গেছে। পোস্টগুলোতে আরো বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প এবারো প্রতারিত হতে পারেন। সেপ্টেম্বরে নির্বাচনী বিতর্কের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যদি ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও আইনসম্মত’ হয় তাহলে তিনি মেনে নেবেন।

এ সপ্তাহে ট্রাম্প নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুইং রাজ্যে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘পেনসিলভানিয়া বড় আকারে প্রতারণা করা হয়েছে এবং তা ধরা পড়ছে। এমন ঘটনা আগে খুব কমই দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতারণার রিপোর্ট করুন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে!’

পেনসিলভানিয়ার তিনটি কাউন্টির কর্মকর্তারা জানান, তারা সম্ভাব্য জালিয়াতির জন্য কিছু ভোটার নিবন্ধন আবেদন তদন্তে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন।

অনলাইন, সামাজিক নেটওয়ার্ক, মেসেজ বোর্ড ও চ্যাট গ্রুপগুলোয় নির্বাচনে জালিয়াতির শত শত অভিযোগ দেখেছে বিবিসি। এর মধ্যে কয়েকটি পোস্ট কয়েক লাখ বার দেখা হয়েছে।

কিছু পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয়, এমন ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেনসহ ভোটিং মেশিন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে ভোট গণনা করা হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে কিছু পোস্ট। একটি ভিডিওতে সম্প্রতি আসা হাইতির নাগরিকদের জর্জিয়ায় ভোট দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি যে আসল নয়, সে বিষয়ে ভুয়া ঠিকানা ও কিছু স্থির ছবির আলামত পেয়েছে বিবিসি। শুক্রবার মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, মতামতকে প্রভাবিত করতে ‘রুশ প্রভাবশালী গোষ্ঠী’ এটি তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজেকে কানাডিয়ান বলে দাবি করে ব্যালটের ছবি পোস্ট করে একজন বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমি গাড়ি চালিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভোট দেব।’ এ পোস্টেও ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। কারণ ছবিতে যে ব্যালট দেখানো হয়েছে তা ফ্লোরিডার। আর সেখানে সশরীরে ভোট দিতে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়।

নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভোটারদের মাঝে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তাছাড়া নির্বাচনের আগে বা পরে বিষয়গুলো কেন্দ্র করে সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে।