ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বৈরুতে নাসরাল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক মানুষ। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সমর্থন পাচ্ছে ইসরায়েল। খবর আল জাজিরা।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৈরুতের অনেকগুলো আবাসিক ভবন গুড়িয়ে গেছে। নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা হাসান নাসরাল্লাহসহ বেসামরিক অনেক মানুষ। তা সত্ত্বেও গত শুক্রবারের (২৭ সেপ্টেম্বর) হামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ হামলায় ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

গতকাল শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, হাসান নাসরাল্লাহ এবং তার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহ গত চার দশক ধরে তাদের সন্ত্রাসের রাজত্বকালে শত শত আমেরিকানকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় অসংখ্য মানুষের হত্যাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে এটি ন্যায়বিচারের একটি পদক্ষেপ। এবার ন্যায়বিচার পেলেন হাজার হাজার আমেরিকান, ইসরায়েলি এবং লেবাননের বেসামরিক মানুষ।

বাইডেন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ক্রমবর্ধমান ইসরায়েলি হামলা সত্ত্বেও ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি সীমিত করার মতো প্রভাব ব্যবহারে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েল কূটনৈতিক সমঝোতার আহ্বান উপেক্ষা করেই চলেছে এবং দিয়েছে আরো হামলার প্রতিশ্রুতি।

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেই অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং আমি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে ব্যাপক আকার ধারণ করতে দেখতে চাই না। নাগরিকদের রক্ষা এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অর্জনে কূটনীতি এখনো সর্বোত্তম পথ।

বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী এবং বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ইসরায়েলের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের নিঃশর্ত সমর্থনই মধ্যপ্রাচ্যকে অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে এবং এতে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ঘটেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নাসরাল্লাহ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য না করলেও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বাইডেন প্রশাসনের যুদ্ধবিরতির আহ্বানের সমালোচনা করেছেন এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের জন্য আরো শক্তিশালী সমর্থন দাবি করেছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেন, আমরা বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ বন্ধ করে।

লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের হামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৬ জন নারী এবং ৮৭ জন শিশু রয়েছে। নাসরাল্লাহকে হত্যা এবং শুক্রবার একাধিক বড় আবাসিক ভবন ধ্বংসকারী বিশাল ইসরায়েলি হামলায় চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইসরায়েল কর্তৃক একাধিক শীর্ষস্থানীয় হিজবুল্লাহ কর্মকর্তার হত্যার ধারাবাহিকতায় ঘটে নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ড। লেবাননের এই গোষ্ঠী এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যু এক বড় আঘাত। হিজবুল্লাহ এবং তাদের মিত্ররা অর্থাৎ, ইরান সমর্থিত ইরাকের মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতিরা এ হত্যাকাণ্ডের কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।