রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে কুর্স্ক অঞ্চলের সেম নদীর ওপর একটি সেতু ধ্বংস করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রামে লিখেছেন, প্রথমবারের মতো কুর্স্ক অঞ্চলে পশ্চিমে তৈরি রকেট লঞ্চার, সম্ভবত আমেরিকান হিমার্স ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ আক্রমণে গ্লুশকভোর একটি সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। যেসব স্বেচ্ছাসেবক ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে সাহায্য করছিলেন তারা নিহত হয়েছেন।’

রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রেমলিনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেছেন, ‘কুর্স্ক অভিযান পরিকল্পনায় ন্যাটো ও পশ্চিমাদের বিশেষ বাহিনীর অংশগ্রহণ ছিল। তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া কিয়েভ কখনই রুশ ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করত না।’ অবশ্য তিনি বক্তব্যের সমর্থনে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, কুর্স্ক অঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক যান রুশ ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

৬ আগস্ট রুশ সীমানায় অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় ইউক্রেন। দুই দেশের মধ্যে প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা যুদ্ধে এ প্রথম প্রতিপক্ষের সীমানায় অনুপ্রবেশ করল ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ায় বহিঃশত্রু আক্রমণের সবচেয়ে বড় ঘটনা এটি। হামলার ১১ দিন পরও রুশ ভূখণ্ডে অবস্থান করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। কিয়েভের দাবি, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৮২টি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন,  রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করে সুষ্ঠু একটি শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই এ আক্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে পোদোলিয়াক বলেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে আগ্রহী নয়। তবে আমরা যদি আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলি সেক্ষেত্রে আমাদের টেবিলের অন্য প্রান্তে রাশিয়াকে রাখতে হবে। ইউক্রেন দেখিয়ে দিচ্ছে যে তারা রাশিয়ার ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম। আর এটাই হবে রাশিয়াকে আলোচনায় বসতে চাপে ফেলার একটি প্রমাণিত ও কার্যকর উপায়।’ খবর রয়টার্স