বর্জ্যের পরিমাণ কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লন্ডনের বিভিন্ন স্কুলে চলছে ব্যতিক্রমী শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা শিখছে কীভাবে ভাঙা খেলনা ও ঘরের পুরোনো বা নষ্ট জিনিসপত্র খুলে তা দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করা যায়। লন্ডনে চলমান ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন উইক’ উপলক্ষে ‘সায়েন্স আউল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নাম ‘দ্য ব্রোকেন আমব্রেলা চ্যালেঞ্জ’।
প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীরা ভাঙা খেলনা, টিনের কৌটা, কাগজের টুকরো কিংবা পুরোনো গৃহস্থালি সামগ্রী ফেলে দেয়ার পরিবর্তে সেগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও আকর্ষণীয় জিনিস তৈরি করা শিখছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটছে।
‘দ্য ব্রোকেন আমব্রেলা চ্যালেঞ্জ’ নামের এ প্রকল্পে প্রতিটি সেশন পরিচালনা করছেন একজন বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বেচ্ছাসেবকরা এতে সরাসরি সহায়তা করছেন। চ্যারিটি শপ থেকে সংগ্রহ করা অবিক্রিত ও ভাঙা খেলনাগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা প্রথমে এ ভাঙা খেলনা ও জিনিসপত্রগুলো খুলে আলাদা করতে শেখে। এরপর সে বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া দিয়ে নিজেদের কল্পনাশক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ নতুন কিছু উদ্ভাবন করে। এ কর্মশালাগুলোর ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো তাত্ত্বিক লেকচার ছাড়াই খেলার ছলে সম্পূর্ণ হাতে-কলমে, আনন্দঘন ও সৃজনশীল কর্মশালার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে ও শিখতে পারছে।
সায়েন্স আউলের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর রেনি টঙ্কিন জানান, লন্ডনের ওয়েস্ট অথরিটির একটি প্রতিবেদন থেকে তিনি জানতে পারেন যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ খেলনা ফেলে দেয়া হয়। এই বিশাল অপচয় রোধেই তিনি এ প্রকল্প চালু করেন। যা শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি কমিয়ে জলবায়ু ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে।
প্রকল্পটি এরইমধ্যে লন্ডনের ১১টি প্রশাসনিক এলাকার শিশুদের কাছে পৌঁছে গেছে। স্কুল ছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কর্মশালাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি সেশনের নেতৃত্বে থাকেন একজন বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলী আর তাদের সহায়তা করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।










