সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের পতনের পর গতকাল প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিরিয়ার নির্বাচনী কলেজগুলোর সদস্যরা নতুন সংসদ সদস্য বেছে নিতে ভোট দেন। এ নির্বাচনকে দেশটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বিদ্রোহী অভিযানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের উৎখাতের পর দেশটিতে নতুন যুগের সূচনা হয়। এ নির্বাচন বর্তমান ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও সিএনএন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার উচ্চ নির্বাচনী কমিটির মুখপাত্র নাওয়ার নাজমেহ জানিয়েছেন, গতকালের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কিছু জেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে এবং বিজয়ী প্রার্থীদের নাম পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৪ বছরের যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় গভীরভাবে বিভক্ত সিরিয়া। সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রতি রয়েছে অবিশ্বাস। এ বাস্তবতায় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট শারা তার অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন।

পরোক্ষ ভোটে মোট ছয় হাজার নির্বাচক স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে আঞ্চলিক নির্বাচনী কলেজগুলোয় ভোট দেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আহমেদ আল-শারার নিযুক্ত একটি কমিটি ১ হাজার ৫৭০ প্রার্থীকে অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রার্থীরা বিভিন্ন সেমিনার ও বিতর্কে নিজেদের কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। তবে দেশটিতে প্রকাশ্যে প্রচারণা ছিল খুবই সীমিত। বড় শহরগুলোয় কোনো নির্বাচনী পোস্টার বা বিলবোর্ড দেখা যায়নি।

গতকালের ভোটে ২১০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্ধারণ হবে। তবে প্রেসিডেন্ট শারা অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নিজে মনোনীত করার আগ পর্যন্ত সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ ভোটের পরিবর্তে এ নির্বাচনে কলেজ পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়েছে। কারণ যুদ্ধের কারণে জনসংখ্যার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না এবং লাখ লাখ সিরীয় নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের নিয়ন্ত্রিত তিনটি প্রদেশে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে সংসদের ১৯টি আসন আপাতত শূন্য থাকছে।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নাওয়ার নাজমেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, এ ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি নতুন অস্থায়ী নির্বাচনী কাঠামোর অধীনে, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জারীকৃত এক ডিক্রির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। ডিক্রির মাধ্যমে ১০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয় এবং অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য নতুন নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়।

অনেকে এ পদক্ষেপগুলোর সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আংশিক ও পরোক্ষ ভোট গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে না এবং এটি অতিমাত্রায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শারার মনোনীত ৭০ জন সংসদ সদস্যই শেষ পর্যন্ত নতুন সংসদের কার্যকারিতা ও বৈধতা নির্ধারণ করবেন। তিনি যদি নারী বা সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে সংসদ আরো বহুমাত্রিক হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শুধু অনুগতদের বেছে নিলে তিনি সংসদীয় বিরোধিতা ছাড়াই সহজে আইন পাস করতে পারবেন।