রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্যদল ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগানি
প্রিগোজিনসহ দলটির কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
২৪ জুন ওয়াগনার বিদ্রোহের পঞ্চম দিন, ২৯ জুন এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে
জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।
গতকাল সোমবার (১০ জুলাই) প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ওয়াগনারের বিদ্রোহের পর ক্রেমলিনে দলটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন ও
তার কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে
রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওয়াগনার গ্রপের বিদ্রোহপ্রচেষ্টা নিয়ে কথা
হয়েছে।
পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে পুতিন
৩৫ জনকে ডেকেছিলেন। প্রিগোজিন ছাড়া বাকিরা ওয়াগনার গ্রুপের ইউনিট কমান্ডার। তাদের সঙ্গে
তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন পুতিন।
বৈঠকে কমান্ডারদের কাছে
২৪ জুনের ঘটনার ব্যাখ্যা শোনেন পুতিন। নিজের মূল্যায়ণও তাদের
জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। এ সময় ওয়াগনার সেনাদের চাকরি কিংবা যুদ্ধে অংশ নেয়ার বিকল্প
প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকে ওয়াগনার
কমান্ডাররা ২৪ জুনের ঘটনা নিজেদের বয়ানে বর্ণনা করেন। এ সময় তারা রাশিয়ার প্রতি
নিজেদের আনুগত্যের কথাও জানান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের হয়ে যুদ্ধে নেমেছে অনিয়মিত সেনাদের বাহিনী ওয়াগনার। তবে এ বছরের ২৮ জুন হঠাৎই বিদ্রোহ করে বসে ওয়াগনার। ওই সময় তারা মস্কো দখলের পরিকল্পনাও করে। পরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় প্রিগোজিন মস্কোর রাস্তা থেকে হটে যান।
কিন্তু গত জুনে হঠাৎ করে প্রিগোজিন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন এবং রাতারাতি ইউক্রেইন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার দক্ষিণের একটি নগরী দখলের পর মস্কো অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।
পরদিন দিনভর যাত্রা করে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে মস্কোর ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল বিদ্রোহী ওয়াগনার বাহিনী।
তবে শেষ
পর্যন্ত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় ওই বিদ্রোহের
অবসান হয় এবং বিদ্রোহীদের কোনো সাজার মুখে পড়তে হবে না বরং তাদের রাশিয়া ছেড়ে
বেলারুশে চলে যেতে দেওয়া হবে এই শর্তে একটি চুক্তি হয়।










