আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স অতিরিক্ত বেশি এবং তিনি আরেক মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়বে। কয়েক মাস ধরেই এমন কটূক্তি চালিয়ে গেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একই ধরনের কথা তাকেও হজম করতে হচ্ছে। খবর পলিটিকো।

ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের মনোনয়নই মূলত পাশার দান পাল্টে দিয়েছে। হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারণায় বলা হচ্ছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবলই অতীতের স্মৃতিচিহ্ন যার পক্ষে আর বর্তমানে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

বাইডেনের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা অনিতা ডান বলেন, ট্রাম্প অবশ্যই দেশকে পেছন দিকে নিয়ে যাবেন। সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আর তার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আর পেছনে ফিরতে চায় না। আর এ ব্যাপারে বয়স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক যা কোনোভাবেই কমলা হ্যারিসের জন্য বাধার সৃষ্টি করতে পারবে না। ট্রাম্পের বিপরীতে দেশের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবেন হ্যারিস।

ঐতিহাসিকভাবেই বয়স্ক প্রার্থীকে রক্ষা করতে ব্যস্ত থাকা ডেমোক্রেটিক সমর্থকরাও এবার একই ধরনের আক্রমণ করতে পারার বিষয়টি উপভোগ করছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ৬০ বছর বয়সী টিম ওয়ালজ চলতি সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে তহবিল সংগ্রহের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বয়সের দিকে প্রকাশ্যে তীর্যক মন্তব্য ছুড়েছেন। ট্রাম্পকে তিনি ‘ক্লান্ত’, ‘কম শক্তির’ এমন একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যার সপ্তাহান্তে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।

কমলা হ্যারিস নিজেও বয়স নিয়ে ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন, তবে সেটা বেশ সূক্ষ্মভাবে। নির্বাচনে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ায় গত সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি অতীত সম্পর্কে তার সমর্থকদের সতর্ক করেন, যেখানে কর্পোরেশনগুলোর ট্যাক্স কমানো হলেও তা শ্রমিক শ্রেণির কোনো কাজে আসেনি। তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ মানুষ। নারীরা নিজেদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। এসব বলে হ্যারিস স্লোগানে বলেন— ‘আমরা আর অতীতে ফিরে যাচ্ছি।'

কথাটি মূলত গত কয়েকদিন ধরেই হ্যারিসের প্রচারণার অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেটার শুরুও হয়েছিল ট্রাম্পের বয়স নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আক্রমণের অংশ হিসেবে।

লাস ভেগাসের সেই প্রচারণায় কমলা হ্যারিস বলেন, এই প্রচারণার অর্থ আমরা বনাম ট্রাম্প নয়। দেশের ব্যাপারে দুটো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই হচ্ছে এখানে। আমরা ভবিষ্যতের দিকে মনোনিবেশ করতে চাই। আর অন্যটি তাকিয়ে আছে অতীতের দিকে।