আরো একবার চন্দ্র অভিযানের জন্য কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে ভারতে। আজ শুক্রবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণ করা হবে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

চার বছর আগে একেবারে শেষমুহূর্তে চন্দ্রযান-২ এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্বপ্ন ভাঙে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর।

এবারের চন্দ্রযাত্রার কেন্দ্রে রয়েছে এলভিএম-৩ রকেট। যা চন্দ্রযানটিকে শক্তি জোগাবে ও পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ঠেলে দেবে।

এলভিএম-৩ একটি ত্রিস্তরীয় উৎক্ষেপণ যান। এর আগে একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহ ও চন্দ্রযাত্রায় এ যান ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্তরে কঠিন জ্বালানি ও একটি স্তরে তরল জ্বালানি রয়েছে। কঠিন জ্বালানি ১২৭ সেকেন্ড ধরে জ্বলে। উৎক্ষেপণের ১০৮ সেকেন্ডের মধ্যে জ্বলতে শুরু করে তরল জ্বালানি। তা ২০৩ সেকেন্ড ধরে রকেটটি চালনা করে।

বর্তমানে ফ্রান্সে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল প্যারিসে প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও প্রতিভার ওপর নির্ভর করেই একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব এগিয়ে যাবে। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, তাতে ওই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সেটার প্রমাণ হলো আমাদের মহাকাশ কর্মসূচি। থুম্বাতে রকেট স্টেশন নির্মাণের আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। তারপর থেকে মহাকাশ ক্ষেত্রে দুই দেশই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। আজ আমরা একে অপরের স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) উৎক্ষেপণ করছি। আর এটা শুনে আপনারা আনন্দিত হবেন যে আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখন ভারতে চন্দ্রযান-৩ এর উৎক্ষেপণের জন্য কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরই ভারতের শ্রীহরিকোটা থেকে সেই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ হবে।’

২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ল্যান্ডার বিক্রমকে চাঁদের পিঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছিল চন্দ্রযান-২। অতীতের অভিযানে পাঠানো অরবিটরটি এখনো চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। তাই এবার ইসরো আর কোনো অরবিটার পাঠাবে না চাঁদের কক্ষপথে। চাঁদের মাটিতে নামতে কক্ষপথে থাকা চন্দ্রযান-২ এর অরবিটারেরই সাহায্য নেবে চন্দ্রযান-৩ এর সঙ্গে যাওয়া ল্যান্ডার আর তার ভেতরে থাকা রোভার।

চাঁদের মাটিতে নেমে দুই সপ্তাহ ইসরোর গবেষণা চলবে। এতে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও নাসার সাহায্যও নেওয়া হবে।