গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে ‘‌মৃত্যুদণ্ড’ দেয়া এবং ‘‌এ ভয়াবহতার অবসান ঘটাতে হবে’। খবর আল জাজিরা।

ডব্লিউএইচও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক হ্যান্ডেলে বলেছে, শুক্রবার গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় এটি অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে হামলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মারাত্মকভাবে পুড়েছে ও ধ্বংস হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। কারণ এটি ‘‌হামাস সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। আর হামাস ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এ দাবিকে ‘‌সুস্পষ্টভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৭৫ রোগীসহ প্রায় ৩৫০ জন ও ১৮০ চিকিৎসা কর্মী ছিলেন। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ভেন্টিলেটরে থাকা ২৫ জন রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গেছে। মাঝারি থেকে গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের বিধ্বস্ত ও অকেজো ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হয়। তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সংস্থাটি বলেছে, ডব্লিউএইচও ও এর অংশীদারদের প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি অক্টোবরের শুরু থেকে হাসপাতালের ওপর বা কাছাকাছি একাধিক হামলার পর কামাল আদওয়ান হাসপাতালে এ হামলার ঘটনা ঘটল। এসব হামলা আমাদের হাসপাতাল সচল রাখার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চলমান ধ্বংস হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাদের চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। এ ভয়াবহতার অবসান ঘটাতে হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা রক্ষা করতে হবে।