গাজায় স্কুল ভবনে আইডিএফের হামলার পর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে। বেসামরিকদের ওপর এই বিমান হামলা সমালোচিত হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোতে। সে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বলছে, এই হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বা গাজা যুদ্ধ শেষ করার কোনো ইচ্ছা নেই ইসরায়েলের।

আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি জেমস জোগবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্ররা দাবি করছে যুদ্ধবিরতি কাছাকাছি। কিন্তু সমস্ত ফিলিস্তিনিরা আরও বেশি মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি এবং হতাশা প্রত্যক্ষ করছে। গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন হেঁয়ালি করার সময় শেষ। ইসরায়েল শান্তি বা যুদ্ধবিরতি চায় না। কেন আমরা এখনও ইসরায়েলকে অস্ত্র পাঠাচ্ছি?

গতকাল শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে সিএনএন সাংবাদিক অ্যালেগ্রা গুডউইন এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলেন, মার্কিন সংবাদ নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করেছে যে, আল-তাবায়িন স্কুলে মারাত্মক ইসরায়েলি হামলায় মার্কিন তৈরি জিবিইউ-৩৯ ছোট ব্যাসের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মার্কিন আইন ও নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অস্ত্রের ব্যবহার নথিভুক্ত করেছে। আর ইসরায়েলের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।

তবে সমালোচনা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন মার্কিন তৈরি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যয়ের জন্য ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার পাঠাবে।

গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি স্কুল ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। স্থানীয় আল-আহলি হাসপাতালের প্রধান ফাদল নাঈম বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হতাহতদের বেশির ভাগের পরিচয়ই এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

ইসরায়েলি  প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র বলেছেন যে, হামলা চালানো হয়েছিল আল-তাবায়িন স্কুলে। তার দাবি, স্কুলটিতে অবস্থান করে হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ সামরিক কাজ করতো। তবে হামাস অস্বীকার করে।জাতিসংঘের মতে, গত ৬ জুলাই পর্যন্ত গাজার ৫৬৪টি স্কুল ভবনের মধ্যে ৪৭৭টি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-তাবাঈন স্কুলে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ ছিল। তাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত। সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার পর বেইত হ্যানউন শহর থেকে প্রায় শতাধিক মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছিল।

এদিকে, আইডিএফ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তত ১৯ জন হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ সন্ত্রাসী  এই বিমান হামলায় নিহত হয়েছে।