আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা ও পর্যালোচনা। প্রাধান্য পাচ্ছে নীতিগত দিক। এক্ষেত্রে ভিন্ন নয় রাশিয়াও। নির্বাচনের আগে দেশটির সঙ্গে নীতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের দিকে নিবিড়ভাবে নজর ও সতর্ক মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন না কেন, আলোচনার টেবিলে দুই দেশের অবস্থান কী হবে এবং ইউক্রেন বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে বিশ্লেষকসহ জনসাধারণের মনে। খবর সিএনএন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে কিয়েভে সাংবাদিকদের কাছে মস্কোর আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের (ফলাফলের) ওপর।’
কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হলে বাইডেন প্রশাসনের নীতি অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে রাশিয়ার অভ্যন্তরে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে সমর্থনের মতো বিষয় রয়েছে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি কিয়েভের যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি ‘একদিনের’ মধ্যে যুদ্ধের নিষ্পত্তি করতে পারেন। ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্সের উত্থাপিত শান্তি পরিকল্পনার শর্তাবলির পুতিনের ‘ইচ্ছা তালিকার’ সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও মার্কিন নীতি একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দিকে পরিচালিত হবে। কারণ হোয়াইট হাউজে যেই শেষ হোক না কেন, রাশিয়া আলোচনার টেবিলে আসতে প্রস্তুত বলে কিছুই বোঝায় না। কারণ প্রেসিডেন্ট যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, রাশিয়া আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক, এমন কোনো ইঙ্গিত আপাতত নেই।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ডিস্টিংগুইশড ফেলো টমাস গ্রাহাম বলেন, ‘ট্রাম্প কী করতে পারেন বলে মনে করেন বা এ মুহূর্তে তার কী প্রভাব রয়েছে, তা এ মুহূর্তে স্পষ্ট নয়। তবে আমি মনে করি না যে এটি কোনো দ্রুত প্রক্রিয়া।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সহায়তা ব্যয় হ্রাস যুদ্ধক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারে। সিএনএনকে গ্রাহাম জানান, প্রেসিডেন্ট যিনিই হোন না কেন পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ‘পশ্চিমা ঐক্যে ফাটল’ সৃষ্টির সুযোগ নিতে চাইবেন।
তিনি বলেন, ‘পাশ্চাত্যে ঐক্য এবং পশ্চিমা ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অভিন্ন লক্ষ্য ছাড়া পুতিনের এখনই ইউক্রেনে তার পদক্ষেপ পরিবর্তন করার কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না।’










