এক সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বেইজিং। সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প ব্যক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। প্যারাগুয়ে যাওয়ার পথে যাত্রা বিরতির অংশ হিসেবে লাই নিউইয়র্কে অবতরণ করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিবৃতি দিয়েছে চীন। খবর আল জাজিরা।

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাইওয়ানের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা লাই প্যারাগুয়ের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সফরে রয়েছেন। অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে তাইপে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে দ্বিতীয়বার যাত্রা বিরতি দেয়ার কথা রয়েছে।

চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে চীন। লাইয়ের যাত্রা বিরতিকে সফর হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে চীন।

তাইপে থেকে ছেড়ে আসা পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইটে লাই নিউইয়র্কে অবতরণের পর পরই এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যেকোনো ধরনের সফরের বিরোধিতা করে। লাই একগুঁয়েভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে আসছে এবং তিনি নিজেও একজন সমস্যা সৃষ্টিকারী।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাইওয়ান। ঘটনাগুলো বারবার দেখিয়েছে যে তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হলো স্বাধীনতা পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়া। চীন ঘনিষ্ঠভাবে ঘটনাগুলো অনুসরণ করছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় ও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের চেয়ে লাই স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেক বেশি স্পষ্টবাদী। আগেই তিনি পরিষ্কার করেছেন, তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে তিনি স্বীকার করেন না। ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগে থেকেই বৈরী ছিল।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লাই ডাক্তারি বিদ্যায় পড়াশোনা করেন। অতীতে তিনি নিজেকে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী কর্মী হিসেবে জানিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহেও তিনি স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের (পিআরসি) অংশ নয় এবং পিআরসি ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনো প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নেই।’ নিউইয়র্কে অবতরণ করে লাই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এক্সে লিখেছেন, তিনি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সম্ভাবনার প্রতীক বিগ অ্যাপলে পৌঁছতে পেরে আনন্দিত।