কর্পোরেট পেশাজীবী নিটিশা আগরওয়াল সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে বের হলেই মনে হয়, যেন ভারতের বাইরে এসে পড়েছি। এত পরিষ্কার শহর আমি এখানে আর দেখিনি।’

কিন্তু মাত্র আট বছর আগেও এই ইন্দোর ছিল ময়লার ভাগাড়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দুর্গন্ধে ভরা আবর্জনার স্তূপ, যেখানে ঘুরে বেড়াত গরু, শূকর আর কুকুরের দল, আর ভনভন করত মাছির ঝাঁক। কিন্তু সে চিত্র পাল্টেছে।

এখন ইন্দোরে প্রতিদিন সকালবেলা শহরের রাস্তায় শোনা যায় বিশেষ একটি জিঙ্গেল ‘ইন্দোর হো গ্যায়া হ্যায় নম্বর ওয়ান।’ এই জিঙ্গেলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে আবর্জনা সংগ্রহের ভ্যান। আর বাসিন্দারা নিজ দায়িত্বে তাদের বর্জ্য সেই ভ্যানে তুলে দেন। ভ্যানগুলো আলাদা আলাদা ঝুড়িতে— ভেজা, শুকনা, ইলেকট্রনিক, বায়োমেডিকেল, প্লাস্টিক, অ-প্লাস্টিক, বিপজ্জনক— ক্যাটাগরির বর্জ্য সংগ্রহ করে।

প্রতিটি ভ্যানে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো রয়েছে। একটি দল নজর রাখে তারা ঠিকমতো তাদের রুট ফলো করছে কিনা। সকালবেলা রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ডিভাইডার— সব ধুয়ে দেয়া হয় পুনর্ব্যবহৃত পানি দিয়ে। শহরের প্রতিটি মোড়ে দেখা যায় রং-বেরঙের ডাস্টবিন, আর রেস্টুরেন্টের পাশে মোবাইল কম্পোস্টিং ভ্যান।

স্থানীয় গৃহিণী নীরু শর্মা বলেন, ‘আমার বাড়ির কাছের সবজির বাজারে বিভিন্ন বর্জ্যের জন্য আলাদা ডাস্টবিন আছে। এমনকি সেখানে এমন একটা মেশিনও আছে, যা আবর্জনাকে জ্বালানিতে রূপান্তর করে। সেই জ্বালানি শহরের যানবাহন এবং বাসাবাড়ির রান্নার জন্য সরবরাহ করা হয়।’

এই বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসেনি। এই পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে। স্কুলশিশুদের শহর পরিষ্কার রাখার শপথ করানো হয়েছে, সিসিটিভি বসিয়ে জরিমানা করা হয়েছে, হোলির মতো উৎসবে বাড়তি গাড়ি ও পানির ট্যাংকার দিয়ে শহর পরিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি ধর্মীয় গুরুদের দিয়ে ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়ানো হয়েছে, মহল্লায় মহল্লায় হয়েছে পরিচ্ছন্নতা প্রতিযোগিতা।

পেট্রোল পাম্প মালিক প্রভনিত সওহনি বলেন, ‘আমি দেখেছি কেউ রাস্তা নোংরা করলেই আশেপাশের কেউ না কেউ তাকে থামাচ্ছে। কেউ কেউ নিজের গাড়ি থামিয়ে আবর্জনা কুড়িয়ে নিচ্ছে। এটা যেন এক সামাজিক মিশনে পরিণত হয়েছে।’

গত কয়েক বছর আগে ইন্দোরে আসা রিয়া রঘুবংশী বলেন, ‘এই উদ্যোগ সফল হয়েছে, কারণ মানুষ এতে আনন্দ খুঁজে পেয়েছে। পরিচ্ছন্ন শহরের পুরস্কার যেন পুরো শহরের আত্মমর্যাদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা তা ধরে রাখতে চায়, রক্ষা করতে চায়।’