জার্মানির মহাসড়কগুলোয় বিওয়াইডি, লিপমোটর ও গ্রেট ওয়াল মোটর ব্র্যান্ডের গাড়ি বহনকারী ট্রাকের সংখ্যা এখন চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের সড়কেও এক্সপেং বা পোলস্টার গাড়ি আগের তুলনায় বেশি চলাচল করছে। সাশ্রয়ী ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় চীনা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) দাপট ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেএটিও ডাইনামিকসের বিশ্লেষণ অনুসারে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের ২৮টি দেশে নতুন নিবন্ধিত গাড়ির ৫ দশমিক ১ শতাংশই ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। এটি রেকর্ড সর্বোচ্চ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল বিওয়াইডি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইউরোপে এ ব্র্যান্ডের ৭০ হাজার ৫০০টি ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির নিবন্ধন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১১ শতাংশ বেশি। শুধু জুনেই নতুন নিবন্ধিত ইভি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে বিওয়াইডি ছিল দশম, এমনকি ফোর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে গ্রাহক দৃষ্টিভঙ্গিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। এ কারণে বাজারটিতে চীনা ব্র্যান্ডের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে।
সুইডেন-চায়না ট্রেড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চীনবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্রেডরিক চো বলেন, ‘১০ বছর আগেও চীনা গাড়িগুলো ক্রাশ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় বিপজ্জনক বলে পরিচিত ছিল। অথচ এখন সুইডেনের শীর্ষ অটো ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্র এসব গাড়িকে সর্বোচ্চ রেটিং দিচ্ছে।’
তার ধারণা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীনা ব্র্যান্ডগুলো সুইডেনের ইভি বাজারের ১০-১৫ শতাংশ দখল করে নেবে। অবশ্য চীনা ইভির প্রতি এখনো কিছুটা নেতিবাচক মনোভাব দেখা যায় ইউরোপে। এর পেছনে রয়েছে চীনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি। অনেকে মনে করে থাকেন, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইভিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে বেইজিংয়ে চলে যেতে পারে।
২০১০ সালে সুইডিশ আইকনিক ব্র্যান্ড ভলভোকে ফোর্ডের কাছ থেকে কিনে নেয় গিলি যা চীনা কোম্পানিটিকে সুইডেনে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।
প্রতিবেশী ডেনমার্কেও চীনা ইভি ব্র্যান্ড নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডেনিশ ইভি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইয়র্ন গ্রঙ্কজেয়ার। গাড়িবিষয়ক ডেনিশ মার্কেটপ্লেস বিলবাসেনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে চীনা গাড়ির বাজারহিস্যা ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে।
সুইজারল্যান্ডের গাড়ি ক্রেতারা সাধারণত জার্মান ব্র্যান্ড বেছে নেন। আজ তাতে বাদ সেধেছে চীনা ব্র্যান্ডগুলো। বিশেষ করে সুইস ক্রেতাদের মনোযোগ কেড়েছে বিওয়াইডি।










