পশ্চিমাদের কট্টর সমালোচক রুশপন্থী মিখাইল কাভেলাশভিলিকে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।
সাবেক পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় কাভেলাশভিলির প্রবল পশ্চিমাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের সাবেক ফুটবলার তিনি। এ বছর এক বক্তৃতায় তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জর্জিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে।
জর্জিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একদল নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে। উপস্থিত ২২৫ জন নির্বাচকের মধ্যে ২২৪ জন কাভেলাশভিলিকে ভোট দেন, যিনি একমাত্র মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
অক্টোবরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি বিজয় দাবি করার পর কৃষ্ণ সাগরের দেশটিতে অস্থিরতা চলছে। গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ আলোচনা বিলম্বিত করার সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে গণসমাবেশের ঢেউ ওঠে।
বিরোধীরা শনিবারের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট সালোমে জৌরাবিচভিলি এখনো দেশের একমাত্র বৈধ নেতা। ক্ষমতাসীন দল জর্জিয়ান ড্রিমের সঙ্গে বিরোধে থাকা পশ্চিমাপন্থী জৌরাবিচভিলি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি নতুন সংসদীয় নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন, যা সাংবিধানিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন। তখন তাদের পুলিশ বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট জৌরাবিচভিলি জর্জিয়ার স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। তার মেয়াদ শেষ হবে ২৯ ডিসেম্বর।
শুক্রবার কোবাখিদজে বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো খুব শক্তিশালী। সুতরাং পরিস্থিতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে আমাদের নিশ্চিতভাবেই কোনো জটিলতা পোহাতে হবে না।’ জৌরাবিচভিলির নিজ দলের নেতা নিনো তিসিলোসানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জৌরাবিচভিলিকে এখন আর জনগণ প্রেসিডেন্ট বলে মনে করেন না।’
গত অক্টোবরের নির্বাচনের পর পরই জর্জিয়ান ড্রিম দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইইউতে যোগদানের আলোচনা ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে বলে গত ২৮ নভেম্বর জর্জিয়া সরকার ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভ আরো জোরালো হয়ে ওঠে। জর্জিয়ার নাগরিকদের একটা বড় অংশ চায় দেশটি ইইউতে যুক্ত হোক।
নতুন নির্বাচনের দাবিতে ইইউর পতাকা নিয়ে প্রতি রাতেই পার্লামেন্টের বাইরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন।










